‘জমি দখল-চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’

অনলাইন ডেস্ক
‘সেদিন জমি দখল বা চাঁদা তুলেতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি’ বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকার ঘুণ্টিঘর মাদকের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের চেষ্টা করেও সফল হইনি।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধে আমি শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে ঢাকা-৬ আসনে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে যাই। যা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের পরে বিষয়টি জানাই। তারা পরে ঘটনাস্থল গিয়ে আমাদের সহযোগিতা করে।

ইশরাক হোসেন আরো বলেন, আগস্টে ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ সংঘটিত হয়। ওই দিন পূর্বনির্ধারিত অভিযান ছিল।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২০-৩০ জন মাদক কারবারি ছোটাছুটি করতে থাকে। কয়েকজন আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসে। এ সময় আত্মরক্ষাতে আমার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি হাতে নিই। নিশ্চিত হই তাদের হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র আছে কি না। তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হলে আমার অস্ত্রটি পকেটে রেখে দিই।

তিনি বলেন, সেদিন প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্র, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক উদ্ধার করি। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে পুলিশ আটক করে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও বিভিন্ন হেডলাইনে প্রকাশ করে আমার ও আমার দলকে বিব্রত করা হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমার নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এক পর্যায়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। ইস্যুটি নিয়ে দল বিব্রত হওয়া আমি পদত্যাগ করতে চাই।’

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেদিন আমি কোনো ভুল করিনি। শুধু আমার নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় আমার অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights