টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার দাবি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা বাসকোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে টাঙ্গাইলের সচেতন নারী সমাজ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ভাসানী হল থেকে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে তারা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে ১৭ বছরের এক কিশোরী টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।

ওই কিশোরী মামলায় অভিযোগ করেছেন, বড় মনির তাদের আত্মীয় এবং পূর্ব পরিচিত। হোয়াটসঅ্যাপে তাদের কথা হতো। ওই কিশোরীর ভাইয়ের সাথে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হয়। ওই কথা গোলাম কিবরিয়া জানানোর পর তিনি সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে গত ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালত পাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলা ফ্লাটে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর শারিরীক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে কারো কাছে এই ঘটনা প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। প্রকাশ করলে প্রাণ মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন। তারপর প্রতিনিয়ত তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রথমবার ধর্ষণের সময় তোলা ছবি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতো। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, এই ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ কথা গোলাম কিবরিয়াকে জানালে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে গোলাম কিবরিয়া তার শ্বশুরবাড়ি আদালত পাড়ায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। রাজি না হওয়ায় ওই বাসায় এক কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে সেখানে আবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী তাকে মারপিট করে। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৩টার দিকে বাসায় পৌছে দেন। তারপর থেকে তাকে নানা হুমকি দেয়া হতো। শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার জন্য মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, এই বোর্ড ওই কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষায় শুধু গর্ভবর্তী ছাড়া অন্য কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট নিসফুন নেসাকে প্রধান করে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights