ডিজিটাল সিটিতে অ্যানালগ ট্রাফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সিটি’র তকমা রয়েছে সিলেটের। নগরের উন্নয়ন, সেবা ও শ্রীবৃদ্ধি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সেবাধর্মী অনেক কার্যক্রমেই লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। সহজ হয়েছে নাগরিক সেবা। কিন্তু এখনো ‘সেকেলে’ রয়ে গেছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এখনো সড়কে লাঠি আর বাঁশি নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। এতে বিরূপ আবহাওয়ায় একদিকে যেমনি মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অধিক সংখ্যক পুলিশ ব্যবহার করতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) জানিয়েছে, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশন করতে সিলেটের মন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রযুক্তির আওতায় আসবে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝারি শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৬ সালে সিলেট নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, নয়াসড়ক, সুরমা পয়েন্ট, নাইওরপুল ও আম্বরখানায় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই সময় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হলেও সেগুলো কার্যকর করা হয়নি। বছর ঘুরতেই সেগুলো নষ্ট হয়ে গেলে আর মেরামত হয়নি। ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছর থেকে প্রতি বছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হলেও এ প্রকল্পে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয়নি। পরবর্তীতে সড়ক সম্প্রসারণের সময় খুঁটিসহ সিগন্যাল বাতিগুলো অপসারণ করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে সিলেট নগরীতে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। সড়কে যানের চাপ বাড়ায় বাড়ছে যানজটও। প্রখর রোদ কিংবা মুষলধারে বৃষ্টিতেও ট্রাফিক পুলিশকে সড়কে দাঁড়িয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে হাত নেড়ে আর বাঁশি বাজিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় যানবাহন। এতে অনেক সময় পুলিশ সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ম্যানুয়েল ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এ প্রসঙ্গে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ্ত রায় জানান, ট্রাফিক পুলিশকে সড়কে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়। সিগন্যাল সিস্টেম ডিজিটালাইজেশন এবং মামলায় এআই সিস্টেম চালু হলে ট্রাফিক পুলিশের পরিশ্রম অনেক কমবে। তখন জনবলও কম লাগবে। এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম জানান, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে সিসিক প্রশাসক, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসএমপির ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। তাঁরা সিলেটের ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং পুরো নগরীকে সিসি ও এআই ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। একটি প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights