দুর্গাপূজা ঘিরে উৎসবের আমেজ, নওগাঁয় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নওগাঁয় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। দুর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন প্রতিমায় রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আয়োজক ও মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মাটি, বাঁশ, খড়, কাঠ ও সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। দেবীর পাশাপাশি কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও অসুরের প্রতিমা তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। এখন রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিচ্ছেন শিল্পীরা।
আত্রাই উপজেলার মৃৎশিল্পী যুগোল কুমার জানান, এক-দুই দিনের মধ্যে প্রতিমায় রং করার কাজ শুরু হবে। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পত্নীতলা উপজেলায় প্রতিমা তৈরি করছেন দুলাল কারিগর। তিনি জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন। এবারও একাধিক প্রতিমা তৈরি করছেন। আগের দামেই প্রতিমা তৈরি করে দিলেও উপকরণের দাম কিছুটা বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
নওগাঁ শহরের প্রতিমাশিল্পী সুধীর চন্দ্র জানান, প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং করার কাজ। প্রতিমাগুলো নিখুঁত ও মনোমুগ্ধকর করে তুলতে সর্বোচ্চ যত্ন নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা।
মৃৎশিল্পীরা বলেন, ‘প্রতিমা তৈরির কাজ শুধু পেশা নয়, এটি ধর্মীয় আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। তাই দুর্গা মাকে নিজের মায়ের মতো করেই গড়ি।’ তাঁরা আরও জানান, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও ক্রেতারা প্রতিমার দাম কম দিতে চান। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, এবার ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও অনুদান দেওয়া হবে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত টহল দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে নজরদারি থাকবে। একই সঙ্গে পূজার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকতে হবে। আশা করি, এবারের পূজায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ছয় দিনব্যাপী দুর্গাপূজার সপ্তমী দুই দিন হওয়ায় ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
