নভেম্বরে রাজনৈতিক সংলাপ

গোলাম রাব্বানী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার পরিকল্পনা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৩, ২৪ ও ২৫ তারিখের রাজনৈতিক দলের সংলাপ বাতিল করেছিল কমিশন। তবে আগামী নভেম্বরে আবারও সংলাপে বসার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। এবারে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েই রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপের জন্য ইসি সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় সংলাপ বাতিল হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিলে নভেম্বর মাসেই সংলাপ হতে পারে। তবে এবারে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন সিকোয়েন্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানাবে ইসি। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন সংলাপে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচন যেমন সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গন্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে, সেভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুশৃঙ্খল করতে দলগুলোর কাছে সহযোগিতা চাইতেই সংলাপের আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ৪০-৪৫ দিন আগেই তফসিল দেওয়া হবে। তবে তফসিল দেওয়ার আগেই দলগুলোর কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে হলে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর সংলাপ করতে হবে নভেম্বরের শুরুর দিকেই। গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সভা করে সংলাপ ও ইউপি ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। ওই দিন ইসি বলেছিল, ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে স্থানীয় সরকারের নির্দলীয় এ নির্বাচন। প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে, ইউপি নির্বাচন সপ্তম ধাপে শেষ হবে আগামী বছরের ২৭ মে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণের কথা জানানো হয়েছিল। তার এক দিন পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দেন সরকারের দুই মন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণায় ইসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। রাজনৈতিক মহলেও সরকার ও ইসির সমন্বয়হীনতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরে ইসি বলেছিল, ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে। তবে সেই বৈঠকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। বরং বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। পরে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা থেকে সরে যায় ইসি। বাতিল হয় সংলাপের সিদ্ধান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights