নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ভার্সন
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’-এর সফল পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’-এর সফল পরীক্ষার বিষয়টিকে উন্নয়ন জাতীয় মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তাইমুর আকাশ থেকে উৎক্ষেপিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৬০০ কিলোমিটার পরিসরে উচ্চ নির্ভুলতার সাথে শত্রুর স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এছাড়াও এটি প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আধুনিক নেভিগেশন ও গাইডেন্স সিস্টেমে সজ্জিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে পারে, যার ফলে এটি শত্রুর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। এর নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রচলিত প্রতিরোধ শক্তি ও অপারেশনাল নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
আইএসপিআর জানায়, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, পাশাপাশি এই উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরাও উপস্থিত ছিলেন। যারা ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং পিএএফ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের সাফল্য প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রচলিত প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জাতির দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এই সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে আধুনিক অস্ত্র প্রস্তুত করা জাতীয় সক্ষমতা, সংকল্প এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই পরীক্ষার সাফল্য জাতীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা নীতিকে জোরদার করেছে।’
এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ‘তাইমুর’ অস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফেয়ার রিসার্চ কমিশনের (সুপারকো) পরিচালক শাফাত আলী নিজস্ব প্রযুক্তি ও চীনের সহযোগিতায় চলতি বছরে চাঁদে অভিযান শুরু করতে চায় বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
