পাকা পেঁপে কেনার আগে যে ৫টি বিষয় খেয়াল রাখবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রাকৃতিকভাবে নরম পাকা পেঁপের স্বাদে মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁপের মতো পুষ্টিকর ফল থাকলে শরীর সুস্থ থাকে, হজম ভালো হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

কিন্তু ভেজালের দুনিয়ায় কোনো কিছুতেই নেই আস্থা। বাজারে অনেক সময় এমন পেঁপে দেখা যায়, যা দেখতে অত্যন্ত উজ্জ্বল, মসৃণ এবং নিখুঁত আকৃতির। এই ধরনের ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব।

অসৎ ব্যবসায়ীরা দ্রুত মুনাফা লাভের জন্য কাঁচা পেঁপেতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে। এই কার্বাইড বাতাসের সংস্পর্শে এসে ‘অ্যাসিটিলিন’ গ্যাস তৈরি করে, যা ফলকে দ্রুত ও ওপর থেকে আকর্ষণীয় হলুদ রঙে পাকিয়ে ফেলে। এছাড়া অনেক সময় ‘ইথিপন’ স্প্রে করেও পেঁপে পাকানো হয়।

এই পেঁপে খেলে তীব্র বদহজম, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে কেমিক্যালযুক্ত ফল খাওয়ার ফলে লিভার (যকৃৎ) ও কিডনি অকেজো হতে পারে এবং জন্ডিসের ঝুঁকি বাড়ে। কার্বাইড থেকে উৎপন্ন গ্যাস মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান (Carcinogenic properties) থাকে, যা নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে কোলন, লিভার বা পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে।

তাই শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে পেঁপে না কিনে, কিছু সহজ কৌশল জেনে বেছে নিন নিরাপদ ফল।

রং দেখে চিনুন

প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপের রং সাধারণত একরকম হয় না। এতে হালকা হলুদ, সবুজ এবং কমলার মিশ্রণ দেখা যায়। কোথাও কোথাও ছোট কালো দাগও থাকতে পারে, যা স্বাভাবিক। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপে সাধারণত খুব উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয় এবং দেখতে প্রায় নিখুঁত লাগে। যদি পেঁপে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিকভাবে সুন্দর লাগে, তাহলে একটু সন্দেহ করাই ভালো।

গন্ধে পার্থক্য

প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে হালকা মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে, যা খুব সহজেই বোঝা যায়। কিন্তু রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপেতে অনেক সময় কোনো স্বাভাবিক ফলের গন্ধ পাওয়া যায় না। বরং কখনো কখনো কেমিক্যালের মতো অস্বাভাবিক গন্ধ অনুভূত হয়। তাই পেঁপে কেনার আগে বোঁটার কাছ থেকে গন্ধ শুঁকে নেওয়া একটি কার্যকর উপায়। এতে আপনি সহজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

নরম-শক্ত ভাব পরীক্ষা করুন

পেঁপে কেনার সময় হালকা হাতে চাপ দিয়ে দেখুন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপে সব দিক থেকেই সমানভাবে নরম ও রসালো হয়। কৃত্রিমভাবে পাকানো পেঁপে অনেক সময় বাইরে থেকে নরম দেখালেও ভেতরে শক্ত থাকে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাইরে অতিরিক্ত নরম হয়ে যায় এবং চাপ দিলে আঙুলের দাগ বসে যায়, যা ভালো লক্ষণ নয়। স্বাভাবিক পেঁপে চাপ দিলে সামান্য বসে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এই বৈশিষ্ট্যটি ভালোভাবে খেয়াল করুন।

বোঁটার অবস্থা দেখুন

পেঁপের বোঁটা বা বৃন্তের অংশটি পরীক্ষা করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিকভাবে পাকা ফলের বোঁটার চারপাশ সাধারণত একটু নরম এবং কুঁচকানো থাকে।

যদি দেখেন পেঁপেটি খুব উজ্জ্বল রঙের, কিন্তু বোঁটার অংশটি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, তাহলে বুঝবেন এটি কৃত্রিমভাবে পাকানো। কারণ রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফলে এই অংশটি স্বাভাবিকভাবে শুকায় না।

ভেতরের বীজ দেখে নিশ্চিত হোন

পেঁপে কাটার পর এর ভেতরের বীজ দেখেও অনেক কিছু বোঝা যায়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপের বীজগুলো কালো হয় এবং জেলির মতো একটি স্তর দিয়ে ঢাকা থাকে।

অন্যদিকে কার্বাইড বা অন্য রাসায়নিক দিয়ে পাকানো পেঁপের বীজ সাধারণত সাদাটে বা অপরিণত থাকে। কারণ এই ফলগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকার সময় পায় না।

বর্তমান সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনতা খুব জরুরি। বাজারে ফল কেনার সময় একটু খেয়াল রাখলেই আপনি নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে পারবেন। সবসময় চেষ্টা করুন বিশ্বস্ত দোকান বা বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কিনতে। বিক্রেতার কাছে ফলের উৎস সম্পর্কেও জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights