পাবনায় মধ্যরাতে সড়কে গাছ ফেলে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় মধ্যরাতে সড়কে গাছ ফেলে বাস-ট্রাকসহ বেশ কিছু গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পাবনা-সাঁথিয়া সড়কের ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে তলট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, রাত দেড়টার দিকে ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে তলট নামক স্থানে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে প্রথমে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের গতিরোধ করে ডাকাত দলের সদস্যরা। এতে কিছু সময়ের মধ্যেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ বেশকিছু গাড়ি আটকে পড়ে।

এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জন হাসুয়া, রামদা, ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলোতে ডাকাতি চালায়। গাড়ির গেট খুলতে দেরি করায় কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে ডাকাতরা। এ সময় পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চলে বলে জানা যায় স্থানীয় লোকজন জানান।

ডাকাতির কবলে পড়া আব্দুস সালাম নামে এক ইসলামী বক্তা ফেসবুকে এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, কিছুক্ষণ আগে এই সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে গাড়িগুলোতে ডাকাতি করেছে। হুট করে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করে ডাকাত দলের সদস্যরা। বার বার গাড়িতে আঘাতের পর আমরা ড্রাইভারকে গেট খুলে দিতে বললে ডাকাতরা ঢুকে ড্রাইভারের গলা ও পেটে চাকু ধরে। একইভাবে অন্যদেরও জিম্মি করে সব লুটে নিয়ে যায়। আমরা বলেছি, ভাই যা আছে সব নেন, কিন্তু কাউকে আঘাত কইরেন না। আমাদের গাড়িতে কাউকে আঘাত করেনি। অনুরোধ করায় আমার দু’টি মোবাইল দিয়ে যায়।

তিনি বলেন, একটা হায়েসে করে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী। ওই গাড়িতে আক্রমণ করে কয়েকজনকে মারধর করে সব লুটে নিয়ে গেছে। একইভাবে সব গাড়িতে পর্যায়ক্রমে ডাকাতি চালায়। গাড়ি ভাঙচুর ও অনেককেই মারধর করে।

স্থানীয় সমাজসেবক আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনেছি, বিস্তারিত জানি না। তবে ওই রাস্তাটি খুব বেশি ব্যস্ত না হলেও বেড়া-বাঘাবাড়ি হয়ে ঢাকায় যাবার জন্য বেশকিছু গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। এটি ডাকাতরা জেনেই গাছ ফেলে ডাকাতি করেছে। তবে আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ৪০টি গাড়ি চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত না আমি নিজে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতি হলো আপনারা কোনো খবর পেলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি তিনটি গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, কেউ বেশি লিখলে তো হবে না ভাই। আমাদের টহল পুলিশ নিয়মিত টহলরত অবস্থায় থাকে, এত সময় নিয়ে ডাকাতদের ডাকাতি করার সময় কই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights