প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমজীবি মানুষের পাশে থাকার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত
দিনাজপুর প্রতিনিধি
অব্যাহত তীব্র তাপদাহে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানেিষর মাঝে। তীব্র তাপদাহের পাশাপাশি বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট প্রাণিকুল। এরপরেও জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হচ্ছেন শ্রমজীবি মানুষ।
প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে বীরগঞ্জের শ্রমজীবি মানুষের কাজের সন্ধানে ছুটে চলা মানুষগুলি যখন ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত তখন তাদের জন্য মানবতার ফেরিওয়ালা বলে পরিচিত তরুন সোহেল আহমেদের অনন্য আয়োজন সবার নজর কেড়েছে। তিনি বীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ফ্রিজের ঠান্ডা পানির বোতলের কাটুন রেখে দিয়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের জন্য। যেখান থেকে তৃষ্ণার্ত মানুষ তাদের প্রয়োজনে নিজেই পানির বোতল সংগ্রহ করে পান করছে। শ্রমজীবি মানুষের পাশাপাশি পথচারীরাও এই সুবিধা থেকে বাদ পড়েনি।
সোমবার মানুষের তৃষ্ণা মেটানো জন্য দিনভর ঠান্ডা পানির বোতল বিতরনের দৃশ্য সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই উদ্যোগেকে স্বাগত জানিয়ে রিক্সাচালক মোজাম্মেল হক জানান, জীবনের তাগিদে রিক্সা নিয়ে বের হয়েছি। প্রচন্ড তাপদাহে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে পথের ধারে রাখা ফ্রিজের ঠান্ডা পানির বোতল যেন আমাদের কাছে আশির্বাদ হিসেবে মনে হয়েছে।
একই কথা জানিয়ে ভ্যান চালক মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, প্রচন্ড তাপদাহে আমাদের ভ্যান নিয়ে বের হতে হয়েছে। কারণ বসে থাকার মতো সুযোগ আমাদের নেই। দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতিতে একদিন ভ্যান নিয়ে বের না হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। ভ্যান নিয়ে ক্লান্ত শরীরে মোড়ে মোড়ে খাবার ঠান্ডা পানি পেয়ে শরীর কিছু বেগ পেয়েছে। শ্রমজীবি মানুষের জন্য এধরণের মানবিক উদ্যোগগুলি আরও বেশি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে সোহেল আহমেদ বলেন, প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমজীবি মানুষের পাশে থাকার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের উচিত যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধ্যমতো পাশে দাড়ানো। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে উপকৃত হবে দেশের সকল মানুষ।
