ফের দুই অঙ্কে মূল্যস্ফীতি, চাপে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর ফের বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচের চাপ। জ্বালানি ও খাদ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের সঙ্গে করের বোঝা যুক্ত হয়ে আগস্টে দেশটির মূল্যস্ফীতি আবারও দুই অঙ্কের ঘরে উঠেছে। মাসটিতে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২ শতাংশে। এর আগের মাসে এই হার ছিল ১০ শতাংশের নিচে।

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহর ও গ্রাম- দুই এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি সরকারি করের প্রভাবও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় ২১ মাস পর পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি আবার ১০ শতাংশের সীমা ছাড়িয়েছিল।

জ্বালানিতে বাড়ছে করের বোঝা : মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে সরকারের এমন নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির বাড়তি খরচ এবং বিভিন্ন করের চাপের বড় অংশই ভোক্তাদের ওপর পড়ে। পেট্রলের প্রতি লিটারে পেট্রোলিয়াম লেভি, কার্বন লেভি ও কাস্টমস ডিউটি মিলিয়ে ১১৬ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত কর দিতে হচ্ছে। হাই-স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ ১০১ পাকিস্তানি রুপি। এক বছর আগের তুলনায় মোটর জ্বালানির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। আগস্টে এ খাতের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশে। টোলা অ্যাসোসিয়েটসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডলারের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ডিজেলের দাম পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি। পেট্রলের দামও বাংলাদেশের পর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

টমেটো-পিঁয়াজে বড় ধাক্কা : জ্বালানির পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দামও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে চলেছে। আগস্টে শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ১ শতাংশে এবং গ্রামাঞ্চলে ১৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে টমেটোর দাম বেড়েছে ১২৮ শতাংশ, পিঁয়াজের ১২৫ শতাংশ, গমের ৮৭ শতাংশ এবং গমের আটার দাম ৭৩ শতাংশ। দুধসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের দামও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর পাকিস্তান সরকার ২ কোটি ৯৭ লাখ টন গম উৎপাদনের দাবি করেছে। তবে সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশ গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এখন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমানো সম্ভব হয়নি।

খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে : শুধু খাবারের দাম নয়, অন্যান্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে এই হার আরও বেশি- ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, মূল মূল্যস্ফীতিও আগের তুলনায় বেড়েছে। আগস্টে এটি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, খাদ্য ও করের বাড়তি চাপ পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সামনে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তথ্য সূত্র : এএনআই নিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights