ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ভাতিজা বউকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আপন ভাতিজা বউকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘বনফুল’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নিশ্বাপলাশবাড়ী গ্রামে সাবেক এমপি আজিজুল হক চৌধুরীর বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ইকবাল হোসেন সরকারি সুবিধার (ফ্যামিলি কার্ড) লোভ দেখিয়ে তার আপন ভাতিজার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান।
গ্রামবাসী জানান, ঘটনাটি এলাকায় মুখে মুখে ফিরছে। আমরা ৯৫ ভাগ নিশ্চিত যে অভিযোগটি সত্য। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। বাকি ৫ ভাগ প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে ওঠার অভিযোগ করছেন খোদ দলের নেতাকর্মীরা।
নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পলাশবাড়ী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীই তার ক্ষমতার দাপট ও অপতৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র এবং ওই ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি হাই কমান্ড। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
দিনাজপুর-৬ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সাত্তার মিলন জানান, ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আগামী দলীয় সভায় বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে রাখা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এ ধরনের অপরাধ যেন ঢাকা না পড়ে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী যেন ন্যায়বিচার পান।
