‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য’

অনলাইন ডেস্ক
সামাজিক সুরক্ষা ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেবল একটি সাময়িক নগদ সহায়তা হিসেবে না দেখে এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ’ নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সামাজিক নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক ধারণার কথা উল্লেখ করে ফারজানা শারমীন বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সামাজিক সুরক্ষাকে এখন কেবল নগদ অর্থ হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর দীর্ঘমেয়াদি ফল বা আউটকামের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আজীবন কোনো পরিবারকে ভাতার ওপর নির্ভরশীল না রেখে তারা যেন নিজেদের জীবন নিজেরাই পরিচালনা করতে পারে, ফ্যামিলি কার্ডের মূল দর্শনও তাই।

তিনি বলেন, একজন অসচ্ছল নারীর কাছে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছানো একটি বিরাট আর্থিক ও মানসিক শক্তি। এটি তার ব্যক্তিগত ওষুধ কেনা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য সমাজকে দারিদ্র্যের স্তর অনুযায়ী ভাগ করে যার যে পরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।

পাইলটিং পর্যায় থেকে সংগৃহীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপকারভোগী নারীরা এই ভাতার টাকা মূলত তিনটি প্রধান খাতে ব্যয় বা ইনভেস্ট করছেন-সন্তানদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা খরচ এবং নিজস্ব চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ।

এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রাপ্ত ভাতার টাকা সঞ্চয় করছেন, যা পরবর্তীতে তাদের ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পে বিনিয়োগের মানসিকতা নির্দেশ করে। পরবর্তীতে এলাকা ভিত্তিক ডাটা অ্যানালিসিস ও ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে এই অর্থ কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে বদলে দিচ্ছে তা পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-সহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে যখন এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, তারা একে অত্যন্ত যুগান্তকারী ও একটি ‘অ্যামবিশাস প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তথ্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি রোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে ৫১টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দেবেন। কোনো প্রশ্ন কতটা ওয়েটেজ বহন করে তা তথ্য সংগ্রহকারীর জানা থাকবে না, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমেই কাট-পয়েন্ট ঠিক করবে। কোনো অসাধু চক্র ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ধরনের লেনদেন বা প্রলোভন দেখালে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে কোনো কার্যালয়ে যেতে হবে না; ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তথ্য সংগ্রহে কোনো ভুলভ্রান্তি বা অনিয়ম চোখে পড়লে তা সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রে অফলাইন ও অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তালিকা প্রণয়ন শেষে তা গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights