বিলম্বে ব্যয় বেড়েছে ৯২২ কোটি টাকা
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম ওয়াসা আবাসিক ও বাণিজ্য খাতে পানি সরবরাহে ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হচ্ছে ১৯৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিলম্বে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে ৯২২ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৬ টাকা। বেড়েছে মেয়াদকাল। তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে অনেক দেরি হয়। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী জ্যৈষ্ঠপুরার ভান্ডালজুড়ি পাহাড়ি এলাকায় ৪১ দশমিক ২৬ একর জায়গায় নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি।
ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেক সভায় ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকায় ‘ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার’ প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু শুরুতেই ভূমি জটিলতায় পড়ে তিন বছর আটকে থাকে প্রকল্পটি। ফলে নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রথম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। প্রকল্পের ৮২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অর্থায়ন করছে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে ১ হাজার ১৫০ কোটি ৬৫ লাখ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে দিচ্ছে ২০ কোটি টাকা।
ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, প্রকল্প এলাকায় ওয়াসার নিজস্ব জায়গা ছিল না। ফলে প্রকল্প অনুমোদনের পর ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় কেটে যায় তিন বছর। এ সময়ের মধ্যে কোনো কাজই করা হয়নি। পরে নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পটি এগিয়েছে। শুরুতে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা হলেও এখন ব্যয় বেড়েছে। তিনি বলেন, এখন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। আগামী নভেম্বর মাসের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি শোধনের ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্প থেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পটিয়া উপজেলার ১০ হাজার আবাসিক গ্রাহকের মাঝে ২ কোটি লিটার এবং কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিইউএফএল এবং কাফকোসহ ছোট-বড় ১৩টি শিল্প-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করার কথা। প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহের জন্য পটিয়া বাইপাস এলাকায় ৫ একর এবং আনোয়ারার দৌলতপুর মৌজায় ২ দশমিক ৯৪ একর জায়গায় দুটি জলাধার নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ১১৩ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানোর কাজ। চলছে কালারপোলে সেতুর পাশ দিয়ে পাইপলাইন সরবরাহের কাজ। সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক।
