ভুল একাদশ নির্বাচন টিম ম্যানেজমেন্টের
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দিনের শেষ সেশনের খেলা চলছে তখন। ব্যাটিংয়ে তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম জুটি। ফিল্ডিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা। হঠাৎ কোথা থেকে একটি ঘুড়ি উড়ে এসে মাঠে পড়ে। শর্ট স্কয়ার লেগের ক্যারিবীয় ফিল্ডার কেভান হজ দৌড়ে এসে ঘুড়ির সুতা টেনে ওড়াতে থাকেন। কিছু সময় পর অবশ্য আম্পায়ার তার কাছ থেকে ঘুড়ি নিয়ে নেন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার কয়েক দর্শক টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয় উপেক্ষা করে ঘুড়ি ওড়ানোর মুহূর্তটি উপভোগ করেন। সিলেটের উইকেট নিয়ে আবারও পরিষ্কার কোনো ধারণা করতে পারেনি নাজমুল-সিমন্স জুটি। কুয়াশায় উইকেট ভেজা থাকে জেনেও টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট একাদশ সাজান তিন স্পিনার ও দুই পেসার দিয়ে। দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত সিলেটে উইকেটের পতন হয়েছে ১৩টি। পেসাররা উইকেট নিয়েছেন ১১টি। এর মধ্যে আলোচিত পারফর্মার ছিলেন ডান হাতি পেসার হাসান মাহমুদ। উইকেটের ময়েশ্চারকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ৩৫৬ রানে। জবাবে ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন পার করেছে বাংলাদেশ। ২৬৮ রানে পিছিয়ে আজ পুনরায় ব্যাটিং নামবেন দুই অপরাজিত ব্যাটার হৃদয় ও মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগার ওপেনার সাদমান ব্যাটিং করতে পারবেন কি না এখনো নিশ্চিত নয়। ফিল্ডিংয়ের সময় গোড়ালিতে আঘাত পান। এরপর স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়েন তিনি।
♦ একবার করে টেস্ট ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন মঞ্জুরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, ইবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। ♦ বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৯ বার করে ৫ বা ততোধিক করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান।পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি, ভারতের চেন্নাই, অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন এবং আমিরাতের আবুধাবি হয়ে এবার দেশের মাটি সিলেটে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন হাসান। ক্যারিবীয়দের ইনিংসের ৬০ শতাংশ বা ৬ উইকেট শিকার করেছেন টাইগার পেসার। ঘরের মাটিতে ১৯ টেস্ট ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ফাইফার নেন হাসান। সিলেট টেস্টে হাসানের বোলিং স্পেল ২৪-১-৯০-৬। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে হাসানের এটি পঞ্চম ‘৫’ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। রেকর্ডটি এত দিন যুগ্মভাবে ছিল হাসান ও শাহাদাত হোসেন রাজিবের। রাজিব ৪ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন ৩৮ টেস্টে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট দুই বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের ১৯ বার করে। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেট ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকারি শ্রীলঙ্কার অফ স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন ৬৮ বার। পেসারদের মধ্যে এই রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের স্যার রিচার্ড হ্যাডলির ৩৬ বার।
প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগে খেলা বন্ধ হয়েছে। প্রথম দিন খেলা হয়েছে ৭০ ওভার। গতকাল দ্বিতীয় দিন খেলা হয়েছে ৭৬.৪ ওভার। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ২৩৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতকাল ৩৫৬ রান করে অলআউট হয় সফরকারীরা। প্রথম দিন ২ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। ২ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদও। গতকাল ৪ উইকেট নেন হাসান। এর মধ্যে নিঃসন্দেহে সেরা উইকেট ছিল জশুয়া বিশপের। সফরকারীদের ইনিংসের ৯০ ওভারে উইকেটের পেছনে এসে স্পিন বোলিংয়ের মতো কিপিং করেন লিটন। হাসানের করা ওভারের প্রথম বলটি ছিল হালকা আউট সুইং। ফরোয়ার্ড খেলে লাইন মিস করেন বিশপ। লিটন স্ট্যাম্পিং করেন। সেটাই ছিল তার ইনিংসে ৫ উইকেট। ঘরের মাটিতে ৫ উইকেটে ভীষণ উচ্ছ্বসিত হাসান, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ঘরের মাটিতে সব সময় ৫ উইকেট পাওয়া আমার জন্য খুবই স্পেশাল। যেহেতু নিজেদের মাঠে ভালো করার একটা সুযোগ ছিল, তাই এটা অবশ্যই আনন্দের।’ উইকেট পেস সহায়ক হলেও নাজমুল বাহিনী খেলেছে তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে। দুই পেসারই প্রতিপক্ষের ৮ উইকেট নিয়েছেন। উইকেট নিয়ে হাসান বলেন, ‘সিলেটের উইকেটে মুভমেন্ট থাকে এবং কুয়াশা ঢাকা থাকে। উইকেট সব সময়ই পেসারদের সহায়ক হয়। যদিও সিলেটের উইকেটে এখন ব্যাটারররা সহায়তা পাচ্ছেন। তারপরও আমি ও তাসকিন ভাই চেষ্টা করেছি লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিংয়ের।’
