ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ চাঁদপুর পৌরবাসী, ডাম্পিং স্টেশন সরানোর দাবি
নেয়ামত হোসেন, চাঁদপুর
চাঁদপুর শহরে প্রাণকেন্দ্র বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাম্পিং স্টেশন। অসহনীয় দুর্গন্ধ আর বিষাক্ত ধোঁয়ার কবল থেকে মুক্তি পেতে ময়লার ভাগাড়টি স্থানান্তরের দাবি এলাকাবাসীর। তবে শহরের অদূরে জমি পাওয়া মাত্রই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনটি স্থানান্তরের কথা জানান পৌর প্রশাসক। জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ময়লা-আবর্জনার ডাম্পিং স্থানটি এখান থেকে স্থানান্তর করবে পৌর কর্তৃপক্ষ, এমনই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
চাঁদপুর পৌরসভার স্বর্ণখোলা রোডস্থ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার একমাত্র ডাম্পিং স্থান। পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র ৯নং ওয়ার্ডে পৌরসভার নিজস্ব ভূমিতে তৎকালীন সময়ে স্থানটি ছিল জনশূন্য এলাকা। কালের আবর্তে বর্তমান স্থানটির চারদিকে গড়ে উঠেছে সুউচ্চ দালান কোঠা, লাশ কাটার ঘর, আর মানুষের বসতি।
ভুক্তভোগী নাছির আলম ও তাছলিমা আক্তার বলেন, ময়লা ফেলতে ফেলতে বর্তমানে ডাম্পিং স্থানটি বিশালাকার পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে পুরো এলাকা জুড়ে অনর্গল বের হচ্ছে পচা দুর্গন্ধ। একটু স্বস্তির নিশ্বাস ও বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করতে তিল পরিমান খালি জায়গা নেই। আবার কয়েকদিন পরপর আবর্জনা পোড়ানোর কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত গন্ধে দুর্ভোগের শিকার নবজাতক, শিক্ষার্থী আর বয়স্ক নারী-পুরুষসহ এলাকায় বসবাসকারী প্রায় হাজার দশেক মানুষ। তবে দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায় বর্ষায় ও বৃষ্টির পানি হলে। সে সময় বেড়ে যায় মশা-মাছির আক্রমণ। এতে ডেঙ্গু, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, যক্ষা, মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তারা দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেতে ময়লার ভাগাড়টি শহরের বাইরে স্থানান্তরের দাবি জানান।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন বলেন, শহরের অদূরে জমি পাওয়া মাত্রই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনটি স্থানান্তর করা হবে। তবে বিভিন্ন এলাকায় জমি খোঁজা হলেও, যখনই শুনে ডাম্পিং ষ্টেশন করা হবে তখনই এলাকাবাসী জমি বিক্রি করতে অস্বীকার করেন।
