মাদ্রাসার ফান্ডের টাকা কোথায়? হিসাব চাইতে গেলে সভাপতির চোখরাঙানি!

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অবস্থিত কালিয়াগঞ্জ বাজার দারুল হাদিস সালাফিয়্যা মাদ্রাসার পরিচালনা ও আর্থিক তহবিল নিয়ে গুরুতর অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদ্রাসার নামে সংগৃহীত বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ ব্যাংকে জমা না রেখে আত্মসাৎ করা এবং এ বিষয়ে হিসাব বা তথ্য চাইতে গেলে সভাপতি কর্তৃক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টরা।

২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন, দান-অনুদান, ওশর, ফিতরা এবং কুরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ ব্যাংকে জমা না রেখে তা নিজস্ব ব্যবসায় খাটানো ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার সাবেক সেক্রেটারি আখতারুজ্জামান বাবুল অভিযোগ করেন, বিগত চার বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনো সঠিক হিসাব বা রেজুলেশন সংরক্ষণ করা হয়নি। সভাপতির একক ইশারায় সবকিছু পরিচালিত হয় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে বারবার রাতারাতি ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করা হয়। মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়েও অভিযোগ করেছেন বাবুল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথভাবে না জানিয়ে একাধিকবার কমিটি গঠন বা পরিবর্তন করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে কমিটির কাগজপত্রে অন্য ব্যক্তির নাম দেখা যায় বলে জানান তিনি। যখনই কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা শিক্ষক এসব বিষয়ে হিসাব বা স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলেন, তখন তাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি ও রোষানলে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে দারুল হাদিস সালাফিয়্যা মাদ্রাসার সভাপতি হুমায়ুন কবির মুন্সির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, মাদ্রাসার নিজস্ব গঠনতন্ত্র এবং আকিদাগত নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সুনির্দিষ্ট আর্থিক হিসাব ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে ফোনে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এ সময় তিনি সাংবাদিককে উল্টো হুংকার দিয়ে বলেন,আপনি যত রকম তথ্য নেন, আপনাকে আসা লাগবে আপনি এখানে এসে তথ্য নেন, মোবাইলে আমি তথ্য দেব না। আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে, সেটি যদি আমার মানহানির উপরে পড়ে, বিষয়টি আমি সেভাবে দেখব।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে সরাসরি তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, আমার সময় নেই আপনাদের সাথে কথা বলার। এরপর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অনিয়মের বিষয়ে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি দ্রুত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে চলে যান।

এ বিষয়ে বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রেজাউল ইসলাম জানান, দারুল হাদিস সালাফিয়্যা মাদ্রাসার মাদ্রাসা পরিচালনা ও আর্থিক অস্বচ্ছতার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights