মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ৪
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রমজানবেগ এলাকার মিলিটারি চকের কাশবন থেকে নিখোঁজের ২০ দিন পর এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশার খণ্ডিত অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন—রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান ওরফে আফসু (২৫) এবং মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। পুলিশ জানিয়েছে, শরীফ ওরফে আফসুই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম (পিপিএম) জানান, শরীফ ওরফে আফসু জুয়া খেলে তার ফুফাতো ভাই সুরজের কাছে ঋণগ্রস্ত হন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বন্ধু রাজন ও ইমরানকে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি। টার্গেট করা হয় তাদের পূর্বপরিচিত অটোরিকশাচালক সাকিলকে।
গত ২৭ জানুয়ারি আসামিরা সাকিলকে (২৪) ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর নির্জন চরে নিয়ে যান। সেখানে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে তারা অটোরিকশাটি খণ্ডিত করে চতুর্থ আসামি ইউসুফ গাজীর কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয়রা কাশবনে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহের পরনে থাকা প্যান্ট, শার্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে সাকিলকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহীন খালাসি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেফতার এবং খণ্ডিত অটোরিকশা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে সাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের খবরে স্থানীয়রা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির, মুন্সীগঞ্জ সার্কেল অফিসার মো. বিল্লাল হোসেন (পিপিএম) ও মুন্সীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
