মেসি হাঁটেন দেখেন এবং গোল করেন

রাশেদুর রহমান

লিওনেল স্কালোনিকে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা মজা করে ‘কাঁদুনে বাচ্চা’ বলে ডাকেন। কারণ তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারেন না। প্রায়ই চোখে শ্রাবণ নামে। লিওনেল মেসিকেও তো এখন এই নাম দেওয়া যায়! তার মনের আবেগও চোখের অশ্রু হয়েই বেরিয়ে আসে। আর সেই অশ্রু ঝড় তোলে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে। তাদের চোখও ভিজে ওঠে। কেউ কেউ হাউমাউ করে কাঁদে। গত পরশু রাতে যেমনটা হয়েছে।

আটলান্টার মাঠে শেষ বাঁশি বাজার পর লিওনেল মেসিকে আর ধরে রাখা যায়নি। সতীর্থদের কাঁধে মাথা রেখে শিশুর মতো কাঁদছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। সেই কান্না হতাশার নয়, স্বস্তির। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকে ফিরে আসার আনন্দের। একসময় মনে হচ্ছিল, এটাই হয়তো বিশ্বকাপে মেসির শেষ অধ্যায় রচনা করবে। সেই ম্যাচই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল তাঁর আরেকটি অবিস্মরণীয় গল্পে। ম্যাচের পর ৩৯ বছর বয়সি মেসি বললেন, ‘এটা ছিল স্বস্তির কান্না। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার মুহূর্তটা খুব কঠিন ছিল। আমরা কোনোভাবেই বিশ্বকাপ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে চাইনি।’

মেসির গল্প কখনোই শুধু গোল দিয়ে লেখা যায় না। বয়সের ভারে তিনি আগের মতো পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়ান না। অনেকটা সময় হাঁটেন, চারপাশ দেখেন, অপেক্ষা করেন। তারপর যখন সবচেয়ে প্রয়োজন, তখনই নিজের জাদুর মায়া ছড়িয়ে দেন। প্রতিপক্ষ হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। মিসরের বিপক্ষে যেমনটা করেছেন। একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। একটি গোল করেছেন। আর ইতিহাস গড়েছেন আবারও। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার একক কৃতিত্ব মেসির। এ তালিকায় নেই আর কেউ।

বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন ২১। চলতি আসরে এটি তাঁর অষ্টম গোল, যা তাঁকে আবারও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। আর তিনি বিশ্বকপের এক আসরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করলেন। ১৯৩০ সালে গুইলারমো স্ট্যাবিল করেছিলেন ৮ গোল। এরপর মেসি। সুযোগ আছে, রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেওয়ারও।

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা এবার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। আর মেসি? তিনি হয়তো এখন আগের চেয়ে বেশি হাঁটেন। বেশি দেখেন। কিন্তু সময় এলেই এখনো গোল করেন। আর সেটাই বারবার বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। মেসি আছেন বলেই স্বপ্ন দেখে আর্জেন্টিনা। স্বপ্ন দেখে লিওনেল মেসির কোটি কোটি ভক্ত। আর লিওনেল মেসি? ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সবকিছু পাওয়ার পরও তার ক্ষুধার যেন শেষ নেই। তিনি আর্জেন্টিনার জন্য, তার অগণিত ভক্তের জন্য এই ক্ষুধাটা ধরে রাখতে চান। ফুটবল জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights