যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের সঙ্গে বড় চুক্তিতে কানাডা
কানাডা প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে চীনের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে কানাডা। এই চুক্তিকে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চুক্তিটিকে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘বিশ্ব যেভাবে এগোচ্ছে, কানাডাও সেভাবেই এগিয়ে যাবে।’
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঘোষিত এই চুক্তির আওতায় কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। খবর বিবিসির।
চুক্তির অংশ হিসেবে কানাডা প্রতি বছর প্রথম ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে আনবে। আগামী পাঁচ বছরে এই কোটা বাড়িয়ে ৭০ হাজারে উন্নীত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর বিনিময়ে চীন কানাডার কৃষিপণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে কানাডীয় ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি লবস্টার, কাঁকড়া ও মটরশুঁটির মতো পণ্যের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে বেইজিং।
চুক্তির আওতায় কানাডীয় নাগরিকদের জন্য চীনের ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়িও শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের তুলনায় বর্তমানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক বেশি ‘পূর্বাভাসযোগ্য’ ও স্থিতিশীল।
এই চুক্তিকে ঘিরে কানাডার অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাসকাচুয়ান প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মো চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে শুল্কের চাপে থাকা কৃষকরা বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন। তবে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ডগ ফোর্ডের মতে, সস্তা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রবেশ কানাডার নিজস্ব অটোমোবাইল শিল্পের জন্য হুমকি তৈরি করবে এবং এর ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কানাডীয় পণ্যের ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক আরোপ এবং উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) বাতিলের হুমকির প্রেক্ষাপটেই কানাডা বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে চীনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও চুক্তি নিয়ে ভিন্নমত উঠে এসেছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চুক্তিটিকে ‘সমস্যাজনক’ বলে মন্তব্য করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর কোনো বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সঙ্গে এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর ফলে একদিকে কানাডার ভোক্তারা কম দামে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক গাড়ি পাওয়ার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে দেশীয় শিল্প ও দীর্ঘদিনের মার্কিন সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
