যুক্তরাষ্ট্রে ছাগলের কাঁচা দুধ পানে মৃত্যুর মুখে দুই শিশু, নেপথ্যে কী?
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় খামার থেকে সরাসরি কেনা অপরিশোধিত বা ছাগলের কাঁচা দুধ পান করে দুই শিশু মারাত্মক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছিল। একজনের বয়স মাত্র ১৭ মাস, অন্যজনের ৬ বছর। দু’জনেরই শরীরে ধরা পড়ে বিপজ্জনক ধরনের ই. কোলাই সংক্রমণ। একজনকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়, অন্যজনকেও নিতে হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।
তদন্তে উঠে এসেছে, যে খামার থেকে দুধটি বিক্রি হয়েছিল সেটি মানবদেহে ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রির কোনও লাইসেন্স নেয়নি। এমনকি শিশুর অসুস্থতার খবর জানার পরও খামারটির মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুধকে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত পাল’-এর দুধ হিসেবে প্রচার করেছিলেন। তারপরও শেষ পর্যন্ত ওই খামারির বিরুদ্ধে কোনও জরিমানা বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়নি ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনার শুরু গত বছরের জুনে। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা এমিলি মারিস তার ১৭ মাস বয়সী মেয়ে ব্রুকলিনের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাঁচা ছাগলের দুধ দেওয়া শুরু করেছিলেন। দুধটি তিনি কিনেছিলেন ‘মুনলাইট রিজ’ নামের একটি খামার থেকে। খামারটির সন্ধান পেয়েছিলেন নিজের কাইরোপ্র্যাক্টরের পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে।
ব্রুকলিনের গুরুতর অসুস্থতা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, কাঁচা দুধই তার ই. কোলাই সংক্রমণের উৎস। পরে পরীক্ষায় শিশুটির শরীরে ই. কোলাই ০১৫৭ শনাক্ত হয়, যা ই. কোলাইয়ের অন্যতম বিপজ্জনক ধরন।
ভেন্টিলেটরে ১৭ মাসের শিশু
ব্রুকলিনের অসুস্থতা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রচণ্ড বমি, রক্তাক্ত পায়খানা এবং অস্বাভাবিক রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের পর তাকে ৭০ মাইল দূরের র্যাডি চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে তার শরীরে হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস ধরা পড়ে। এ রোগে ক্ষুদ্র রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুকলিনের কিডনি বিকল হতে শুরু করলে তাকে ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয় এবং শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটর বসানো হয়।
একপর্যায়ে শিশুটির রক্তে অতিরিক্ত অ্যাসিড জমে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতেও সমস্যা তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিকিৎসকেরা তার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। ওই রাতটি মেয়েটি বাঁচবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন তার বাবা-মা।
মারিস পরে বলেন, মেয়েকে কাঁচা দুধ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি নিজেকেই দায়ী মনে করছিলেন। কাঁচা দুধের উপকারিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নানা দাবিতে বিশ্বাস করেছিলেন তিনি। তবে কাঁচা দুধের পাস্তুরিত দুধের তুলনায় বাড়তি পুষ্টিগুণের কোনও প্রমাণ নেই এবং এতে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি- এ তথ্য তিনি আগে জানতেন না।
একই দুধ খেয়ে অসুস্থ আরেক শিশু
ব্রুকলিন যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, তখন একই খামারের দুধ পান করা আরও একটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।
নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য আইরিস ও ডেভিড গালিন্দো তাদের ৬ বছর বয়সী মেয়ে ভিক্টোরিয়ার জন্য মুনলাইট রিজ থেকে প্রথমবার ছাগলের দুধ কিনেছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তারা গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন। আইরিস ছোটবেলায় গুয়াতেমালায় ছাগলের দুধ পান করেছিলেন, তাই তাদের কাছে এটি স্বাভাবিক বিকল্প মনে হয়েছিল।
জুনের শুরুতে দুধ কেনার সময় তারা খামার মালিক কোর্টনি বেকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে দুধটি তাদের ছোট মেয়ের জন্য।
কয়েক দিন পর ভিক্টোরিয়ার মধ্যে অবসাদ ও রক্তাক্ত ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। দু’বার জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১৩ জুন তাকে র্যাডি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তারও এইচইউএস ধরা পড়ে এবং একই ই. কোলাই ০১৫৭ সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
আইরিস গালিন্দো বলেন, মেয়েকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার খবর পাওয়ার পর তার মনে হয়েছিল ‘পুরো পৃথিবী যেন ভেঙে পড়েছে’।
অসুস্থতার খবর পেয়েও দুধ বিক্রির প্রচার
ব্রুকলিনের অসুস্থতার খবর পেয়ে ৫ জুন মারিস খামার মালিক বেকারকে বার্তা পাঠান। তিনি জানান, চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন খামারের দুধের কোনও ব্যাচ থেকেই মেয়ের ই. কোলাই সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে এবং আগের সপ্তাহে যারা দুধ কিনেছেন, তাদের সতর্ক করা দরকার।
বেকার প্রথমে দুঃখ প্রকাশ করে জানান, তার দুধ পরীক্ষার ফলাফলে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরে কথোপকথনে জানা যায়, তিনি আসলে ই. কোলাইয়ের জন্য দুধ পরীক্ষা করাননি এবং কীভাবে এ পরীক্ষা করতে হয়, সেটিও জানতেন না।
এরপর ১৪ জুন মারিস জানতে পারেন, একই খামারের দুধ পান করা আরেক শিশুও অসুস্থ হয়েছে। তিনি বেকারকে কিছুদিন দুধ বিক্রি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বেকার কোনও জবাব দেননি।
পরদিন মারিস ফেসবুকে দেখতে পান, বেকার অন্য একজন ক্রেতার প্রশ্নের জবাবে লিখেছেন- তার কাছে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত পাল’-এর কাঁচা ছাগলের দুধ রয়েছে।
ক্ষুব্ধ মারিস তখন বেকারকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যেন দুধ বিক্রি বন্ধ রাখেন এবং নির্দিষ্ট ধরনের ই. কোলাই পরীক্ষা না করে দুধকে নিরাপদ বলে প্রচার না করেন। তিনি জানান, তার ১৭ মাস বয়সী মেয়ে প্রায় মরতে বসেছিল।
তদন্তে এলেও ফৌজদারি ব্যবস্থা নয়
মারিসের পাঠানো বার্তা ও হাসপাতালের তথ্য পাওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার খাদ্য ও কৃষি বিভাগসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত শুরু করে।
১৭ জুন একজন গোপন তদন্তকারী বেকারের খামারের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক গ্যালন দুধ কেনার কথা বলেন। খামার থেকে জানানো হয়, তারা গ্যালনে ছাগলের দুধ বিক্রি করে।
২০ জুন তিনজন নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খামারটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। তখন বেকার দাবি করেন, তিনি মানবদেহে ব্যবহারের জন্য নয়, শুধু পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে দুধ বিক্রি করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার আইনে মানবদেহে ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে লাইসেন্স প্রয়োজন। তবে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে লেবেল করে লাইসেন্স ছাড়াই দুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, কিছু বিক্রেতা এই আইনি ফাঁক ব্যবহার করে নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তদন্তকারীদের কাছে অবশ্য এমন বার্তা ছিল, যেখানে বেকার জানতেন যে, অন্তত ব্রুকলিনের মতো একটি শিশু তার দুধ পান করছে। তদন্তের এক পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছিল, বেকার ‘স্পষ্টভাবেই জানতেন দুধটি একটি শিশুর কাছে যাচ্ছে’।
তারপরও কর্মকর্তারা ফৌজদারি মামলা করার বদলে বেকারকে দুধ-সম্পর্কিত কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন এবং আইন লঙ্ঘনের নোটিস দেন। তাকে পরদিন দুধের একটি নমুনা দিতে বলা হয়।
নমুনা পরীক্ষায় ই. কোলাই মেলেনি
বেকার নিজেই পরদিন ১১টি ছাগল থেকে সংগ্রহ করা বলে দাবি করা আধা গ্যালন দুধের নমুনা কর্মকর্তাদের দেন। ১১ দিন পর সীমিত পরিসরের পরীক্ষার ফল আসে। এতে ই. কোলাইসহ কয়েকটি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে তদন্তকারীরা নমুনাটি সংক্রমণের কয়েক সপ্তাহ পর সংগ্রহ করেছিলেন এবং এটি খামার মালিক নিজেই সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে ওই নমুনা দিয়ে শিশুদের অসুস্থতার সময়কার দুধে জীবাণু ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার খাদ্য ও কৃষি বিভাগ ১ আগস্ট তদন্ত বন্ধ করে। বিভাগটি সিদ্ধান্তে জানায়, বেকার লাইসেন্স ছাড়াই অনুমোদনহীন দুধজাত পণ্য বাজারজাত ও বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও জরিমানা বা শাস্তি দেওয়া হয়নি।
বিশেষ তদন্তকারী ন্যান্সি ডেল সিডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেকার মানবদেহে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দুধ বিক্রি করেছিলেন- এটি প্রমাণ করা যায়নি। তা প্রমাণিত হলে মামলাটি রিভারসাইড কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হতো।
ক্যালিফোর্নিয়ার খাদ্য ও কৃষি বিভাগের মুখপাত্র ডেভন কিলার প্রোপাবলিকাকে বলেন, ফৌজদারি মামলা করতে গেলে দুধ বাজার থেকে সরানোর প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারত। তার দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।
পরে অ্যারিজোনায় চলে যান খামারি
পরে বেকার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় চলে যান এবং সেখানে খামার পুনরায় চালু করেন।
প্রোপাবলিকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, তদন্তের সব পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল এসেছে এবং তার দুধে কোনও জীবাণু পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, পরিবারগুলো জানত যে, দুধ মানবদেহে ব্যবহারের জন্য নয়; তারা নিজেরাই সেটি পান করিয়েছে।
বেকার আরও বলেন, মারিস তার মেয়ের অসুস্থতার জন্য কাউকে দায়ী করতে চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্রুকলিন অসুস্থ হওয়ার পর তিনি দুধ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
তবে পরিবারগুলোর সঙ্গে তার বার্তা, তদন্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে তার কয়েকটি দাবি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই পরিবারের মামলা
হাসপাতাল থেকে দুই শিশু বাড়ি ফেরার পর তাদের পরিবার দুটির মধ্যে যোগাযোগ হয়। তারা একে অপরের সঙ্গে বেকারের পাঠানো বার্তা মিলিয়ে দেখেন। তাদের দাবি, বেকার দুই শিশুর অসুস্থতার বিষয়টি জানতেন, কিন্তু অন্য পরিবারকে বিষয়টি জানাননি।
এরপর দুই পরিবার রিভারসাইড কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে বেকার ও তার খামারের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মানবদেহে ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে দূষিত কাঁচা দুধ বিক্রি করা হয়েছিল। মামলাটি এখনও চলমান। বেকার জানিয়েছেন, তার খামার অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে ‘পুরোপুরি আইনি লড়াই’ করবে।
ব্রুকলিন এখনও ওই অসুস্থতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বয়ে বেড়াচ্ছে। তার শারীরিক বিকাশে বড় ধরনের ছেদ পড়েছে, হাঁটার সময় সামান্য খুঁড়িয়ে চলে এবং রাতে আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তার কিডনির সমস্যা থাকতে পারে এবং নিয়মিত কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। ভিক্টোরিয়ারও নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
সতর্ক করতে গিয়ে ফেসবুক গ্রুপ থেকে নিষিদ্ধ
ঘটনার পর অন্য পরিবারগুলোকে সতর্ক করতে মারিস আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাঁচা দুধের ঝুঁকি নিয়ে লিখেছিলেন। তিনি জানান, তার মেয়ে ও আরেকটি শিশু কাঁচা ছাগলের দুধ পান করে প্রায় মারা যেতে বসেছিল এবং অন্যদের ঝুঁকি জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
কিন্তু এরপর তাকে তার কাইরোপ্র্যাক্টর ক্রিস বোমানের পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
বোমান বলেন, মারিসের অভিজ্ঞতা দুঃখজনক হলেও তিনি মনে করেন, কাঁচা দুধকে দায়ী করার আগে সব দিক দেখা উচিত। তিনি এখনও কাঁচা দুধে বিশ্বাস করেন এবং বেকারের দুধের পরীক্ষার ফলকে পরিষ্কার বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মারিসের দাবি, তার সতর্কবার্তা মুছে ফেলা ও তাকে গ্রুপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন সময়ে, যখন অন্য পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো প্রয়োজন ছিল।
তিনি এখনও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে কাঁচা দুধের প্রচার দেখলে নিজের মেয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কখনও তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়, কখনও তার পোস্ট মুছে দেওয়া হয়। তবু অন্য কোনও পরিবার যেন একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়- এই আশাতেই তিনি সতর্ক করে যাচ্ছেন। সূত্র: সিএনএন
