রংপুরের আকাশে মেঠো আবাবিল

নজরুল মৃধা রংপুর
মুসলমানদের হৃদয়ে এক গভীর ভালোবাসায় লালিত আবাবিল পাখির নাম। পবিত্র কোরআনে আবাবিল পাখির উল্লেখ আছে। পবিত্র কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আসা ইয়ামেনের রাজা আব্রাহার অভিযান ব্যর্থ হয় এক ঝাক আবাবিল পাখির ফেলা কঙ্করের আঘাতে। সেই আবাবিল পাখির দেখা মিলেছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি তিস্তা নদী থেকে এই পাখিটির ছবি তুলেছেন শৌখিন আলোকচিত্রী কবি ও লেখক রানা মাসুদ। তিনি বলেন, এদের উড্ডয়ন ক্ষমতা অনেক বেশি। এরা এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির। দ্রুত দিক বদলাতে জুড়ি নেই এদের। দেখতেও সুন্দর। বাংলাদেশের রংপুরে দেখা মেলে মেঠো আবাবিল পাখির। এদের উড়ার ভঙ্গি খুবই আকর্ষণীয়, এরা নানাভাবে পাক খেতে খেতে উড়তে পারে। পাখিটির বিষয়ে জানা যায়, আবাবিল (Swallow) একটি ছোট্ট পাখি। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। পতঙ্গভুক পাখি। এদের খাটো ও চওড়া ঠোঁট ছোট শক্ত লোমে আবৃত। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এরা আছে। প্রায় ৯০ প্রজাতির আবাবিল রয়েছে। বাংলাদেশে চার প্রজাতির আবাবিল রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পরিযায়ী ও এক প্রজাতি দেশি। মেঠো আবাবিল দেশি প্রজাতির। এদের ডানা লম্বা ও সরু, লেজ দ্বিধাবিভক্ত এবং পা দুর্বল। এরা উড়ন্ত পোকা ধরতে পারদর্শী। মেঠো আবাবিলের পালক চকচকে নীল বা কালো। সাধারণত নিচের চেয়ে ওপরের দিক গাঢ় রঙের। একসঙ্গে বাসা বাঁধে খামারের চালাঘরে, দালানের কার্নিশে অথবা কোনো কাঠামোয়। বাসাগুলো বাটি আকৃতির হয়ে থাকে। ছয়টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে এই পাখি। এ পাখিরা ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে। এদের দেহ লম্বায় ১০ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার, ওজন ১০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের লেজে সাধারণত ১২টি পালক থাকে। আবাবিল পাখিকে সুসংবাদ, আরাম ও আনন্দের বার্তা বলে মনে করা হয়। অনেকে আবাবিলদের আবহাওয়ার পাখি মনে করেন। ধারণা করা হয় যে, এরা নিচে উড়লে ঠান্ডা বায়ু ও বৃষ্টি আসবে, উঁচুতে উড়লে রোদ ও উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। সমুদ্রের নাবিকদের কাছে অনেককাল ধরেই আবাবিল একটি ভালো প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আবাবিল দেখা মানে নাবিকদের কাছে তীরের সন্ধান পাওয়া যাবে এমনটা ধারণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights