রপ্তানি আয় বাড়ল ৫.৮৮ শতাংশ
অনলাইন ডেস্ক
দেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫.৮৮ শতাংশ।
এ সময়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল এক হাজার ৬১৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ডলার।
তবে রপ্তানি আয়ের এ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান তৈরি পোশাক খাতের। চার মাসে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। পোশাকের পাশাপাশি পাট, চামড়া, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিপরীতে কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাতে রপ্তানি আয় কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলার। আগের মাস সেপ্টেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১.৩৯ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৩৯ শতাংশ।
রপ্তানির ৮০ শতাংশই পোশাক থেকে
রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে এক হাজার ৩৭৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৮২ শতাংশ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।
পোশাকের দুই উপখাতের মধ্যে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। চার মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৭৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৭৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬০২ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৬০ শতাংশ। অক্টোবর মাসে নিটওয়্যার থেকে আয় এসেছে ১৭৭ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৬.৪৮ শতাংশ। আর ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ১৪০ কোটি ডলার।
পোশাকের বাইরে অন্যান্য উৎপন্ন পণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। চার মাসে ম্যানুফ্যাকচার্ড গুডস বা উৎপন্ন পণ্য থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৬৬০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬.৫৪ শতাংশ। মোট রপ্তানি আয়ের ৯৭ শতাংশের বেশি এসেছে উৎপন্ন পণ্য থেকে।
পাট, চামড়া ও ওষুধে আশার আলো
তৈরি পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি দেখা গেছে। চার মাসে এ খাতের আয় ২৪.৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারে। এ সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানি বেড়েছে ৬২.৪২ শতাংশ। আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। পাটের সুতা ও টুইন রপ্তানি বেড়েছে ৩০.৬৮ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় এসেছে ২১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। তবে পাটের থলে ও বস্তা রপ্তানি কমেছে ৭.৪৩ শতাংশ।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২.৪৭ শতাংশ। চামড়ার জুতা রপ্তানি বেড়েছে ৯.২৯ শতাংশ। আয় হয়েছে ২৬ কোটি ২১ লাখ ডলার।
ওষুধ ও রাসায়নিক পণ্যেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। এ খাতের আয় ১৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬.৪৪ শতাংশ বেশি। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৪৪ শতাংশ। এ ছাড়া উইগ ও কৃত্রিম চুল রপ্তানিতে ৮৬.০৯ শতাংশ, কার্পেটে ৩৬.৬৪ শতাংশ এবং বিশেষায়িত টেক্সটাইল পণ্যে ১৬.৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্যে বড় ধাক্কা
উৎপন্ন পণ্যে প্রবৃদ্ধি থাকলেও প্রাথমিক পণ্য রপ্তানিতে দুর্বলতা স্পষ্ট। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় ১২.৭১ শতাংশ কমে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৫৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। মৎস্য খাতে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ রপ্তানি কমেছে ১১.০৭ শতাংশ। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ২০.৪৬ শতাংশ। আয় নেমে এসেছে ৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে। তবে কাঁকড়া রপ্তানি বেড়েছে ৭১.১৮ শতাংশ।
কৃষিপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে ফল রপ্তানিতে। এ খাতের আয় ৮০.০৯ শতাংশ কমে ৯৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল পাঁচ কোটি ডলার।
তামাক রপ্তানি কমেছে ৪৬.৭৫ শতাংশ। আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ ছাড়া শাক-সবজি রপ্তানি ৭.৮০ শতাংশ, তৈলবীজ ২৪.৫৪ শতাংশ এবং চা রপ্তানি ২২.৮৬ শতাংশ কমেছে। তবে শুকনা খাবার ও মসলা রপ্তানিতে যথাক্রমে ২১.১১ ও ১২.৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
