রামিসা হত্যা মামলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে মামলাটি বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

এ মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বদলির আদেশ দেন।

এর আগে, একই আদালতে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান।

এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে এ অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিন সকালে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর একটি রঙের বালতির ভেতর দেখতে পান।

এসময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা ওই শিশুকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে।

পরে ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

রামিসার বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights