শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সে সর্বোচ্চ সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ২৪শে অক্টোবর দেশব্যাপী নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জঁ-দিদিয়ে বার্জার বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কর্তৃপক্ষ এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতায় রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো জনসমাগম, সাংস্কৃতিক কিংবা ক্রীড়া ইভেন্ট নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সরকার কোনো কিছুকেই বাদ রাখছে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন গত ১৭ই অক্টোবরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি হবে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং যেসব কর্মী ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল তাদের ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের ছুটি আর বহাল থাকছে না। এছাড়া এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে অপারেশন সেন্তিনেল, জিআইজিএন এবং রেইড-এর মতো অভিজাত বাহিনীগুলোও মাঠে নামবে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ঘোষণা করেন যে, ইউনিয়নগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত নয় এমন সব বিক্ষোভ আগামী কয়েক দিন এবং বিশেষ করে আগামী ২৪শে অক্টোবর যতদূর সম্ভব নিষিদ্ধ করা হবে। প্রিফেক্টরা ইউনিয়নগুলোর আবেদনগুলো যাচাই করে শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি ভবন সুরক্ষার স্বার্থে বিকল্প পথ প্রস্তাব করবেন। সরকারি মুখপাত্র মড ব্রেজিওন জানিয়েছেন যে, ইউনিয়ন বহির্ভূত বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণভাবে একেকটি ঘটনার প্রেক্ষাপট বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিস পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই রবিবার পর্যন্ত প্লেস দ্য লা রিপাবলিক এবং লে হালে এলাকার চারপাশের প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত এগারোটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত একটি কারফিউ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শনিবার ল্যুভর, ওরসে এবং পিকাসো মিউজিয়াম বন্ধ থাকবে।

কর্তৃপক্ষ সিজিটি ইউনিয়নের প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী বাস্তিল থেকে নেশন পর্যন্ত প্যারিস মার্চের অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েলো ভেস্টস আন্দোলনের বাস্তিল থেকে অপারো রুট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তারা এই মার্চের সঙ্গে যুক্ত হবে। শনিবারে অলিয়ঁস, মধ্য তুলোঁ এবং লিলের কিছু অংশে বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মধ্য তুলোঁতে আগামী শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্কদের একা চলাচলের ওপর কারফিউ কার্যকর থাকবে।

ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার সাতশ’ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং দুইশো সতেরো জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রসিকিউটরদের প্রতি বিক্ষোভ নিষিদ্ধকরণ, সাময়িকভাবে নাগরিক অধিকার হরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির মতো অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নু আগামী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৈঠকে বসবেন।

কর্তৃপক্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের তাদের প্রাঙ্গণ সুরক্ষিত রাখতে এবং নজরদারি ব্যবস্থা পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। প্যারিস পুলিশ উপযুক্ত স্থানে ক্যানাইন টিম বা কুকুর বাহিনীসহ বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের সুপারিশও করেছে।

১৭ অক্টোবর জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়, যার ফলে একাধিক শহরে স্থানীয়ভাবে কার্ফু জারি করতে হয়েছিল। আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ইউনিয়নগুলো আগামী ৫ই নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ দিবসের ডাক দিয়েছে।

সূত্র: আনদোলু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights