শুধু ইরানে নয়, খামেনি ছিলেন ইরাকেরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন । ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুতে ইরানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। খামেনি কেবল ইরানের নন, প্রতিবেশী ইরাকেরও একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

আল জাজিরার খবর অনুসারে, তেহরানে খামেনির কফিনের পাশে লাল ব্যানার হাতে ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছে শোকাহত মানুষ। কাঁদছেন শীর্ষ নেতারা। এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইরানে একটি যুগের অবসান হচ্ছে। তবে তার প্রভাব সীমানা ছাড়িয়ে ইরাকেও ছড়িয়ে ছিল।

কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল মুসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, খামেনি ইরাকেরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।

ইরাক শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। সম্প্রতি যুদ্ধের পাশাপাশি ইরাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের কাজ চলছিল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দেশই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। শিয়া সম্প্রদায়ের সাথে গভীর সম্পর্কের কারণে খামেনি সেখানে বড় রাজনৈতিক প্রভাব রাখতেন। ইরাকের পবিত্র নাজাফ শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়া প্রমাণ করে, সেখানে ইরানের কতটা শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

অধ্যাপক মুসগ্রেভ আরও বলেন, এই বিশাল শোকানুষ্ঠানের দুটি অর্থ আছে। প্রথমত, এর মাধ্যমে জনগণের মাঝে খামেনির বিশাল গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ হয়েছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে মানুষের মাঝে এমন ঐক্য দেখা যায়নি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণেই মানুষ এখন এক হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তার জানাজায় ইরাক, তুরস্ক, ওমান এবং চীনের নেতারা যোগ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে তার প্রতি গভীর সংহতি রয়েছে।

টানা ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান চলবে। আগামী শুক্রবার তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights