সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল হবে বাস্তবভিত্তিক : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক

দেশের অর্থনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি অতীতের সংখ্যাভিত্তিক বর্ণনার চেয়ে বাস্তবসম্মত ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, আগে যে প্রবৃদ্ধির হিসাব তুলে ধরা হতো, তাতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার অভাব ছিল। নতুন পরিকল্পনায় সরকার বিশেষ করে যুবক, নারী ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেবে।

বুধবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিতুমীর তার বক্তব্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য তুলে ধরেন, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিত করা হবে।

ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় খাদ্য ও জ্বালানির কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানি সম্পদ উত্তোলনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য অনুযায়ী শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিল্পখাতে বৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের গভীর সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের নিম্নগতিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এবং প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষের সহায়তায় সামাজিক সুরক্ষা জোরদার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করেছে সরকার।

তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখায় সুশাসনে মৌলিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে মূল ফোকাস। সরকার জনবিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে চায় বলে জানান তিনি।

তিনি প্রস্তাব করেন, জ্বালানি সরবরাহ সময়সূচির মতো তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, যাতে নাগরিকরা সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারে। এছাড়া, কোভিড-পরবর্তী নানা কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য কৌশলে রূপান্তরের মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র : বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights