সার্বিকভাবে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে : পরিকল্পনামন্ত্রী

অনলাইন প্রতিবেদক

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘আমাদের দেশে পরিবর্তন হচ্ছে। সার্বিকভাবে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। অস্বীকার করবো না সেখানে অনেক গ্যাপ আছে, দৃশ্যমান ঘাটতি আছে, অন্যায় আছে। বাংলাদেশ সৃষ্টির তার থেকে বর্তমান সময়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে এটা নিশ্চিত।’

ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক কার্টুনিস্ট এম. এ. কুদ্দুস এর সম্মানে এক স্মরণ সভা ও ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি-রাজনীতিতে কার্টুনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে এর আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পত্র পত্রিকায় কার্টুন কম দেখা যায়। আগে বেশি দেখা যেত। পশ্চিমা জগতে কার্টুনের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। যেমনি একটা ছবি অনেক শব্দ প্রকাশ করে থাকে, ঠিক তেমনি একটা কার্টুনও মিলিয়ন ওয়ার্ড প্রকাশ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন নাগরিকের কোন কিছু জানার অধিকার এবং প্রয়োজন দুটোই আছে। লক্ষ কোটি টাকা দিয়ে আমরা কি কাজ করছি, কেন করছি- সেটা জানার অধিকার আছে জনগণের।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবার উচিত প্রয়াত কুদ্দুসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আমি তার স্ত্রীর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা ব্যবস্থা করা হবে।’

এসময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালায়ের যুগ্মসচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, ‘কুদ্দুস ছিলেন বাংলাদেশ কার্টুন জগতের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। তার সম্পর্কে বলতে গেলে আমি আবেগ প্রবণ হয়ে যাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘একজন কুদ্দুস এক দিনে তৈরি হয়নি। তিনি ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি আর্ট করতেন। সে ছিলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট। প্রচার বিমুখের কারণে তার কার্টুন বেশি প্রচার হয়নি। প্রচার করা হলে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যেতেন। সে ছিলো একজন দেশপ্রেমিক কার্টুনিস্ট।’

সভাপতির বক্তব্যে নূরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, ‘রাজবাড়ীর মানুষ কুদ্দুসকে কিভাবে চেনে আমি জানি না, তবে তার কার্টুন সারা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছে। কুদ্দুসরা শুধু রাজবাড়ীর সম্পদ নয়, সারা বিশ্বের সম্পদ। সংগঠনের পক্ষে আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কুদ্দুসের পরিবারকে আগে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেছি। এখন আরো ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমরা যেন কুদ্দুসের সকল কার্টুন নিয়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করবো।’

কুদ্দুসের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘কুদ্দুস ছিলেন খুবই বিনয়ী। তিনি অল্পতেই তুষ্ট থাকতেন এবং খুশি হলে শিশুদের মতো একটি হাসি দিতেন। তার অকাল প্রয়াণ যাওয়া আমাদের জন্য বিশেষ করে আমার জন্য অত্যন্ত বেদনার।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা। অনুষ্ঠানে কুদ্দুস এর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন দৈনিক সংবাদের সাব এডিটর ওবায়েদ আকাশ, নয়া দিগন্তের চিপ রিপোর্টার ও সমিতির অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের পান্থ আফজাল, সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অরন্য গফুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক চন্দন সান্যাল।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রিমন রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কাজী রওনাক হোসেন সম্পাদক, মাসিক সরগম ও উপদেষ্টা, ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতি, সাংবাদিক ও সমালোচক গোলাম মুর্তজা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও উপদেষ্টা, রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতি, মানিক লাল সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা রশীদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ও সমিতির সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত। দপ্তর সম্পাদক শামীম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাহিদুর রহমান হিমেল, ক্রীড়া সম্পাদক শাহেদ আলী ইরশাদ, কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক শামস সোহাগসহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights