সীমান্তের ওপারে মায়ের মৃত্যু, এপারে মেয়ের কান্না—শেষবার মুখ দেখাল বিজিবি-বিএসএফ
মেহেরপুর প্রতিনিধি
সীমান্তের ওপারে মারা গেছেন মা, আর এপারে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে। দুই দেশের সীমান্তের কাঁটাতার আর ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে মাকে হারানোর শোকের মধ্যেও শেষ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন তিনি। অবশেষে বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের লাশ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান মেয়ে হাফিজা খাতুন। এ সময় সীমান্তে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯-এর কাছে এ ব্যবস্থা করা হয়।
ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জায়রা (৭০)। প্রায় ৩৬-৩৭ বছর আগে বিবাহসূত্রে ভারতে বসবাস শুরু করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত কারণে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলাদেশে থাকা মেয়ে হাফিজা খাতুন তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য বিজিবির কাছে আবেদন করেন। তিনি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরে বিজিবি তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবানীপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগরের ভবানীপুর বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল। ভারতের হৃদয়পুর বিএসএফ ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাম্প কমান্ডার ইন্সপেক্টর এস কে রয়।
মায়ের লাশ শেষবারের মতো দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাফিজা খাতুন। তিনি জানান, মায়ের লাশ দেখতে পেরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা খুশি।
মুজিবনগরের ভবানীপুর বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল বলেন, দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অপরাধপ্রবণতা কমাতে বিজিবি-বিএসএফ এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
