সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: সিজিএস
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
গর্বিত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থেকে প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এরপরও নির্বাচন ও রাজনীতিতে তাঁদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান হয়নি। নারীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বরিশাল ক্লাবে সিজিএস আয়োজিত ‘নেতৃত্বে নারী ও তরুণ: বাধা কোথায়?’ শীর্ষক সংলাপ ও কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিজিএসের ‘রাজনীতিতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মশালায় সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নেতৃত্বে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মানসিকতা। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাহস প্রয়োজন, যা নারীদের মধ্যে থাকতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নিজের কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। বরিশাল নগরীকে নারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন। নারীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের আন্দোলনে বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকায় নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। অথচ গত নির্বাচনে নারীরা পাঁচ শতাংশ মনোনয়নও পাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলার আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ও নারীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ট্রল করা, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার প্রবণতা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। নারী-পুরুষ ও তরুণদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে নারী প্রতিনিধি ১৩ শতাংশ, জাপানে ১৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশপ্রেম ও রাজনীতির চেতনা শুধু স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় গেলেই তৈরি হয় না; তা মানুষের মনেও ধারণ করতে হয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কাজই করা হোক না কেন, তা যেন দেশের স্বার্থে হয়।
ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ নাসির বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সারাদিনব্যাপী এ সংলাপ ও কর্মশালায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, তরুণ রাজনীতিবিদ, নারী নেতৃত্ব, বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, অধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের বাধা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে লিঙ্গভিত্তিক মানদণ্ড সম্পর্কে তরুণদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো ছিল কর্মশালার মূল লক্ষ্য।
সিজিএস বাংলাদেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটি সুশাসন, দুর্নীতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা এবং গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
