সৌদির আকাশ সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে আকাশপথের হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালানো হবে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক হামলায় অংশ নেবে না ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, নতুন সহায়তার আওতায় সৌদি আরবে প্রতিরক্ষামূলক আকাশ টহল পরিচালনার পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন এবং সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টাদের পাঠানো হবে।

কী ধরনের সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য?
ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণায় সামরিক সহায়তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, আরএএফের টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আকাশসীমায় প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করবে। এর উদ্দেশ্য হবে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ আকাশপথের সম্ভাব্য হামলা থেকে সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো রক্ষা করা।

দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান দেবে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ব্রিটিশ সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করবেন।

তৃতীয়ত, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আগে থেকেই মোতায়েন করা সরঞ্জাম ও ব্রিটিশ সামরিক সদস্যদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে সৌদি বাহিনীকে সহযোগিতা করা হবে।

এছাড়া সৌদি প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে। এর আওতায় ইয়েমেনে এমন হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় সৌদি অভিযানে সহায়তা দেওয়া হতে পারে, যেগুলো সৌদি ও ইয়েমেনের জনগণের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হুথিদের হামলা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

ব্রিটিশ সরকার বলেছে, বেসামরিক স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানায় তারা। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে লন্ডন।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে সহিংসতা বাড়লে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও ব্রিটিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আগের সহায়তার ধারাবাহিকতা
সৌদি আরবের অনুরোধের পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটির প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরএএফের ভয়েজার ট্যাংকার বিমান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইয়েমেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরি করা।

তবে যুক্তরাজ্য সরাসরি হুথিদের ওপর আক্রমণাত্মক হামলায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোরদারে ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতি বাড়লেও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা থেকে নিজেদের দূরে রাখার অবস্থানই বজায় রাখছে লন্ডন। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights