স্বামীর সঙ্গে হোটেল ছাড়ছিলেন নববধূ, হঠাৎই লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে; খুনের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে হোটেল ছাড়ার প্রস্তুতির সময় স্বামীর সামনেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ২৭ বছর বয়সী মুসকান সিমোলিয়া নামের এক নববধূ। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন মৃত্যু হয় তাঁর। এ ঘটনায় স্বামী নীলেশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন নিহতের বাবা।
রবিবার ঝাঁসির সিপরি বাজার থানা এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্বামী ও এক হোটেলকর্মীর সঙ্গে ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন মুসকান। ঘরের দরজার কাছে পৌঁছতেই হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান তিনি। এরপর স্বামী তাঁকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে কাছের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় মারা যান মুসকান। তাঁর স্বামী নীলেশ (৩৩) মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বাসিন্দা। তিনি একটি গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। নীলেশের দাবি, হোটেলের ২১২ নম্বর ঘরের দরজার কাছে হঠাৎ পড়ে যান তাঁর স্ত্রী। এরপর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুসকানের বাবা রামজিলাল সিমোলিয়া জামাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে খুনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ থেকে তাঁর সন্দেহ, নীলেশ মুসকানের মাথা দেওয়ালে ঠুকে দিয়ে থাকতে পারেন।
নিহতের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে নীলেশ তাঁদের বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে মুসকানকে সঙ্গে নিয়ে গণেশ বিহার কলোনিতে তাঁর মাসির বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁরা একটি হোটেলে উঠেছিলেন।
রামজিলালের অভিযোগ, রবিবার নীলেশ তাঁকে ফোন করে চিত্রা চৌরাহার কাছে একটি হোটেলে যেতে বলেন। প্রথমে হোটেলটি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ে পরিবার। পরে তাঁরা জানতে পারেন, ২৩ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নীলেশ ও মুসকান ঝাঁসির ঋষভ হোটেলে ছিলেন।
মুসকানের বাবার আরও অভিযোগ, বিয়ের আগে নীলেশের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই তথ্য গোপন করেই তিনি মুসকানকে বিয়ে করেন বলে দাবি করেছেন রামজিলাল। তাঁর আরও অভিযোগ, অন্য নারীদের সঙ্গে নীলেশের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি প্রায়ই মুসকানের সঙ্গে নিজের প্রথম স্ত্রীর তুলনা করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
