হাইতিতে ২ হাজার সেনা পাঠাল এল সালভাদর, নেপথ্যে কী?
অনলাইন ডেস্ক
ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে নিখোঁজ চার সেনাসদস্যকে উদ্ধারে দুই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর।
একই সঙ্গে দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান নিরাপত্তা অভিযানেও সহায়তা করবেন তারা।
বুধবার এক বিবৃতিতে এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক দিদিয়ে ফিলস-এমেকে বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি জানান।
নিখোঁজ চার সেনাসদস্য হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীর (জিএসএফ) হয়ে কাজ করছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘাঁটিতে ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা হয়।
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এ ঘটনায় এল সালভাদর ও হাইতির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ সেনাদের উদ্ধারে বড় পরিসরের অভিযানটি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে হাইতির পক্ষ থেকে চারটি মরদেহ বিশেষ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেগুলো নিখোঁজ সেনাদের বলে দাবি করা হলেও বুকেলে তা নাকচ করেন। তার ভাষ্য, মরদেহগুলোর সঙ্গে নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় মেলেনি। এর মধ্যে একটি মরদেহ শিশুর এবং অন্য একটির পরনে ছিল ভিন্ন একটি দেশের সামরিক পোশাক।
এর আগে গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বুকেলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নিখোঁজ সালভাদরীয় সেনাদের মুক্তি না দিলে হাইতির সশস্ত্র গ্যাংগুলোকে নির্মূল করার উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে নিজ দেশে নেওয়া পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত দেন তিনি।
হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় গত বছরের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জিএসএফের ক্ষমতা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অভিযান চালাতে বহুজাতিক বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাইতিতে গ্যাং-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটিতে সহিংসতা আরও বেড়েছে। সূত্র: বিবিসি
