হারিয়ে যাওয়ার পথে সৌখিন বাহন ভেসপা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

ইতালির মোটর যানটি এই দেশে ৬০-৭০ দশকে জনপ্রিয়তা পায়। ৯০দশকে সেই জনপ্রিয়তার ভাটা পড়ে। বিশেষ করে মোটর সাইকেল সহজলভ্য হয়ে পড়ায় ভেসপার চাহিদা কমে যায় বলে জানা যায়।

কুমিল্লা নগরী ও জেলায় ৬০ এর দশকের প্রথম দিকে ভেসপা ব্যবহার শুরু করেন বিত্তবান সৌখিন পরিবারের সদস্যরা। নিভু নিভু করে টিকে থাকা সেই ভেসপার ভিড় এখন দেখা যায় নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকায় আলী আক্কাসের মেকানিক দোকানে।

সূত্র জানায়, কুমিল্লায় ৬০এর দশকে কুমিল্লায় ভেসপা আমদানি করেন পরিবহন ব্যবসায়ী মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ। তবে এর বেশি ক্রেতা ছিলো চট্টগ্রামের লোকজন। প্রথম দিকে কুমিল্লায় ৪-৫টি ভেসপা থাকলেও ধীরে ধীরে তা দুইশ’ ছাড়িয়ে যায়। ৯০ দশক পর্যন্ত ভেসপার সেই দাপট বহাল ছিলো। শহরে উল্লেখযোগ্য ভেসপা ছিলো ঠাকুরপাড়ার প্রয়াত ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম মজুমদারের, চক বাজারের ডিলার বাবর মিয়ার ছেলে খোকনের, সাতোরার ছানু মিয়া চেয়ারম্যানের ও মো. সেলিমের, ফৌজদারির আতাউর রহমান এসডিও’র ছেলে বাবরের, ধর্মপুরের আবদুল হালিমের। ৬০ দশকে ফ্যাশনেবল ভেসপা চালাতেন শাসনগাছা এলাকার মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের মেঝ ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ, তার ভেসপার সিটে লাগানো ছিলো বাঘের চামড়া, নিচের অংশে ছিলো হরিণের চামড়া। ৭০দশকে ফ্যাশনাবল ভেসপা চালাতেন তার ভাগ্নে তালপুকুর পাড়ের জামিল আহমেদ খন্দকার। তার ভেসপা চালানো দেখতে অনেকে সড়কের পাশে এসে দাঁড়াতেন। তার ভেসপা ছিল বিশেষ ডেকোরেশন করা। এতে বিশেষ সাউন্ড সিস্টেম লাগানো ছিলো।

ব্যবসায়ী মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের ছেলে জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বড় ভাই জামাল উদ্দিন আহমেদ ভেসপা আমদানি করেন। তার ছোটজন কামাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন সৌখিন ভেসপা চালক। তার ভেসপায় বাঘ ও হরিণের চামড়া লাগানো থাকতো। সেটি গোপনে ১৯৬২ সালের দিকে প্রথম চালনা শুরু করেন। নিজে কিনেন ৭০ দশকের দিকে। আমার সেই ভেসপা এখনও সচল রয়েছে। এটি এখন কাপ্তান বাজারের মেকানিক আলী আক্কাসের নিকট মেরামত করি। জেলায় আর কোন মেকানিক শপ নেই। পাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন ভেসপা মেরামত করতে আসেন।

জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, তারুণ্যের সেই দিন গুলো এখনও মনে পড়ে। ভেসপা ছিলো আমাদের তারুণ্যের সৌখিন বাহন। বয়সের কারণে এখন অনিয়মিত চালাই।

কুমিল্লা নগরীর একমাত্র ভেসপা মেকানিক আলী আক্কাস বলেন, ১৯৬৫সালের দিকে ১০বছর বয়সে পুলিশ লাইন এলাকায় কেনু মিয়ার নিকট কাজ শিখি। বেবি টেক্সি দিয়ে কাজ শেখা শুরু করি। মোটর সাইকেলও মেরামত করতাম। শেষে ভেসপা মেরামতের কাজ শুরু করি। এখন শুধু ভেসপা মেরামত করি।

লাকসাম থেকে এক সময় চান মিয়া, সুরুজ মিয়া ও রহিম মিয়াও ভেসপা মেরামত করতে কুমিল্লায় নিয়ে আসতেন। এখনও ২৫-৩০টি ভেসপা টিকে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights