‘১৭০ রান ডিফেন্ড করা সম্ভব ছিল, কিন্তু আমরা ভালো বল করতে পারিনি’
স্পোর্টস ডেস্ক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এই রান নিয়েও ম্যাচ জয়ের বিশ্বাস ছিল দলের। বোলাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় লক্ষ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বোলিংয়ের ঘাটতির কথা স্বীকার করেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘না, ১৭০ হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে সেটা হয়নি। অবশ্যই ওদেরকে একটু ক্রেডিট দিতে হবে। আমি বলব আমরা এই উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
মিরপুর টেস্টে হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বাকি পাঁচটি টেস্টের মধ্যে চারটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করতে হবে টাইগারদের।
তবে ফাইনালের হিসাব মাথায় রেখে মিরপুরের উইকেট তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন শান্ত। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনা করেই কন্ডিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘না, এরকম কোনো চিন্তা ছিল না। আমি ফাইনালের কথা প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনেও বলেছি একেকটা ম্যাচ আমরা চিন্তা করতেছি। প্রতিপক্ষের কী শক্তি আছে বা আমাদের কোন জায়গাটাতে আমরা বেটার করতে পারি, অপোনেন্টের কী উইক জোন—এগুলো চিন্তা করে কন্ডিশনটা সেট করা হয়েছে। এবং আমি বলব যে প্রথম দুই দিন যদি আপনি উইকেটটা দেখেন, মোটামুটি খুব ভালোই ছিল। আমরা শুরুতে হয়তো অত ভালো ব্যাটিং করিনি ভালো স্টার্ট পাওয়ার পর। বাট আমার মনে হয় না যে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল চিন্তা করে কন্ডিশনটা এরকম বানানো হয়েছে।’
প্রথম ইনিংসে ভালো শুরুর পরও দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে শান্ত বলেন, ‘না, কালকের ওই সময়টা আমি বলব যে অবশ্যই ভালো বল করেছে, কন্ডিশনটাও ভিন্ন ছিল। আমার মনে হয় এ ধরনের উইকেটে এরকম সিচুয়েশন আসে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওইখানে তিনটা উইকেটের জায়গায় যদি আমরা একটা উইকেটও মিনিমাইজ করতে পারতাম, এটা ভালো হতো। অপ্রত্যাশিতভাবে ওটা হয়নি।’
দলের পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন অধিনায়ক। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের সাম্প্রতিক সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে স্পিনারদের ওপর আস্থার কথা জানান তিনি।
শান্তর ভাষায়, ‘পেস বোলিংটা কাজ করছে, কিন্তু পেস বোলিংয়ের সঙ্গে স্পিনাররাও কিন্তু দেশের বাইরে বা দেশে উইকেট নিয়েছে। মিরাজ দেখবেন বেশ কিছু জায়গায় পাঁচ উইকেটও নিচ্ছিল, তাইজুল ভাইও ভালো বল করেছিল। সো দুই দলের দুইজনের মধ্যে একটা ভালো কম্বিনেশন ছিল।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনা করেই উইকেট তৈরি করা হয়েছিল উল্লেখ করে শান্ত আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষের স্ট্রেন্থ অনুযায়ী আমি যেটা একটু আগেও বললাম যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোন জায়গায় স্ট্রেন্থ আছে, কোন জায়গায় উইকনেস আছে, ওই অনুযায়ী আমরা কিন্তু উইকেটটা ওইভাবে তৈরি করেছি। এবং স্পেশালি আমরা আসলে কীভাবে ওদেরকে ডমিনেট করতে পারি, ওই চিন্তা করে উইকেটটা বানানো। কারণ স্পিনাররা সবসময় আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে অতীতে। ওই আত্মবিশ্বাসটা আমাদের আগেও ছিল, এখনও আছে। অপ্রত্যাশিতভাবে ওটা হয়নি। বাট আমার মনে হয় না যে কন্ডিশন নিয়ে খুব বেশি আমরা ভুল করেছি।’
