২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর

অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিবেচনায় এ যাবৎকালের মধ্যে চলতি বছর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর কারণ হিসেবে তারা, অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে উল্লেখ করেছে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, চলতি বছরের তাপমাত্রা ২০২৪ সালের রেকর্ডকে স্পর্শ করার বা তা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, এ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কোপার্নিকাস আরও জানিয়েছে, বিশ্ব এবার রেকর্ড উষ্ণ অক্টোবর মাস প্রত্যক্ষ করেছে। এ সময় বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের গড় বায়ু তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের (১৮৫০-১৯০০ সাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত) তুলনায় ১.৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চার বছরের গড় তাপমাত্রাও ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এড়াতে প্যারিস চুক্তিতে এই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস-এর জলবায়ু বিষয়ক কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেছেন, অক্টোবর মাসেও বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক উষ্ণতা বজায় ছিল। বৈশ্বিক তাপমাত্রা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, ৎমানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু এমনিতেই উষ্ণ হয়ে উঠেছে, তার ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি আরও তাপ যোগ করছে। জাতিসংঘ আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী ‘কপ৩১’ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যখন তুরস্কে একত্রিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এই নতুন প্রতিবেদনটি সামনে এল।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, ইউরোপে তীব্র দাবদাহ এবং ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের দাবানলের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া এক বছরের পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কয়েক মাস ধরেই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে আসছেন যে, এই এল নিনো চলতি বছরের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, তীব্র হতে থাকা এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে।

প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ পর্যায় হিসেবে পরিচিত ‘এল নিনো’ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে আবহাওয়ায় এমন পরিবর্তন আসে যা খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সাল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হয়ে উঠতে পারে। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ বৈশ্বিক উষ্ণতাকে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ‘অনেক নিচে’ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে জাতিসংঘ সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করেছে, দীর্ঘমেয়াদী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা লঙ্ঘিত হবে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করার সময়কালকে সীমিত রাখতে এবং তাপমাত্রা যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় কমিয়ে আনতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: ডন, গাল্ফ নিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights