৯ গোল করা নেইমারকে নিয়ে সতর্ক জাপান, শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল এবং এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। গ্রুপ পর্বে সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ব্লু সামুরাইরা। সেই ম্যাচে জাপানের হয়ে এক বিশ্বকাপে রেকর্ড সপ্তম গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড ডাইজেন মায়েদা। তবে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ায় শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের সামনে পড়ছে দুরন্ত ফর্মে থাকা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল।
সুইডেনের সঙ্গে ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে জাপানের ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ডাইজেন মায়েদা ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে বলে স্বীকার করলেও দলের সম্ভাব্য জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, খেলাটি অত্যন্ত গতিশীল হবে। তবে জাপান যদি মাঠে নিজেদের স্বভাবজাত খেলাটা দৃঢ়তার সঙ্গে খেলতে পারে, তাহলে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই হারানো সম্ভব। এ পর্যন্ত দলগতভাবে যে চমৎকার বন্ধন এবং প্রস্তুতি তারা তৈরি করেছেন, তা মাঠে শতভাগ ফুটিয়ে তোলাই এখন তাদের প্রথম পদক্ষেপ।
মায়েদার সুরেই কথা বলেছেন জাপানি দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়ুতো নাগাতোমো। এফসি টোকিওর এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম সেরা অস্ত্র নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে আলাদাভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ব্লু সামুরাইদের বিপক্ষে নেইমারের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ, জাপানের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ৯টি গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। নাগাতোমো বলেন, নেইমার একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় এবং তাকে নিয়ে তাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচটিকে সম্পূর্ণ নতুন একটি টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি, যেখানে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে মাঠে নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাপান ও ব্রাজিল মোট ১৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপানের জয় মাত্র একটিতে। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য এই পরিসংখ্যান স্বস্তিদায়ক হলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভিন্ন এক আবহ তৈরি করছে সাম্প্রতিক অতীত। বিশেষ করে ২০২৫ সালে এই জাপানের কাছেই ব্রাজিলের হেরে যাওয়ার স্মৃতি এখনো টাটকা, যা সোমবারের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের মনে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।
