জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নানান সংকট ও প্রতিকূলতা পার করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। একই সঙ্গে জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৮১টি দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে রয়েছে ৫১টি বিদেশি দূতাবাস, যা সামনের দিকে আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে দূতাবাস স্থাপনের বিষয়টির অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এসব দূতাবাস চালু হলে সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরাল হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দ্বিপাক্ষিক নানান ইস্যুতে একসঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি দূতাবাস
বাংলাদেশ সরকার ৮১টি দূতাবাসের মাধ্যমে অন্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। প্রাথমিকভাবে দূতাবাসগুলো ভাড়া করা ভবনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করলেও পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে ৩২টি মিশনের জন্য জমি থাকা সাপেক্ষে নিজস্ব ভবন নির্মাণ অথবা জমিসহ তৈরি ভবন ক্রয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে।

সামনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলাই যায়। আগামী মাসে আসছেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সম্ভবত প্রথমবারের মতো আসছেন ব্রাজিলের কেউ। ব্রাজিলের সঙ্গে কাজও হচ্ছে আমাদের। তার এ সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে।— পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব

বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশে মোট ১৭টি দূতাবাসের নিজস্ব ভবন রয়েছে। এরমধ্যে এশিয়ায় পাঁচ দেশে ছয়টি, ইউরোপে সাত দেশে সাতটি, আফ্রিকায় একটি, উত্তর আমেরিকায় তিনটি নিজস্ব মিশন রয়েছে। এছাড়া নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরে বাংলাদেশের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাকিস্তান, ভুটান, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও সৌদি আরবে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প চলমান।

বাংলাদেশে রয়েছে যেসব বিদেশি দূতাবাস
বর্তমানে বাংলাদেশে ৫১টি বিদেশি দূতাবাস রয়েছে। সেগুলো হলো- আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রাজিল, ব্রুনাই, কানাডা, চীন, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ভ্যাটিকান সিটি, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, মিয়ানমার, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি

সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ৪৫ বছর পর আবারো চালু হয়েছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস। এ দূতাবাস চালুর মধ্যদিয়ে দুই দেশই অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এর আগে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ১৯৭৮ সালে ঢাকার দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক কার্যক্রম ও ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম ভারতের দূতাবাস থেকে পরিচালিত হতে থাকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে স্থায়ী দূতাবাস না থাকলেও অনারারি কনস্যুলেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কয়েকটি দেশ। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড অনারারি কনস্যুলেট সেবা উদ্বোধন করেছে। অনারারি কনস্যুলেটের মাধ্যমে ঢাকায় ভিসা আবেদন জমাদান চালু করে সহজীকরণের অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ৪৫ বছর পর আবারো চালু হয়েছে আর্জেন্টিনার দূতাবাস। এ দূতাবাস চালুর মধ্যদিয়ে দুই দেশই অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এর আগে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার ১৯৭৮ সালে ঢাকার দূতাবাস বন্ধ করে দেয়।

দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তিতে দূতাবাসের জোরালো ভূমিকা
আন্তর্জাতিকভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তি দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় হতে পারে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তি, প্রটোকল এবং সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো দেশ অন্য দেশকে চুক্তি সইয়ের ইচ্ছা প্রকাশের পর খসড়া চুক্তি মতামতের জন্য পাঠাতে পারে। নিয়মানুসারে বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুক্তির প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো মিশনগুলোর মাধ্যমে স্বাগতিক দেশ অথবা তার আওতাভুক্ত রাষ্ট্রে পাঠায়।

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজর রাখছে বাংলাদেশ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উভয় দেশ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি পর্যালোচনার সময় ও স্থান নির্ধারণ করে অথবা খসড়া পাঠানো রাষ্ট্রকে অপরপক্ষ প্রাপ্ত চুক্তির ওপর লিখিত মতামত ও পর্যবেক্ষণ পাঠায়। এবং এসব কার্যক্রমে বড় ভূমিকা থাকে উভয় দেশের দূতাবাসের।

বহুপক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্য মন্ত্রণালয় অথবা প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির আলোকে, সরকারের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ এ ধরনের চুক্তিতে সই করে। অনেক দেশের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। সর্বসম্মতিক্রমে চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া আন্তর্জাতিক ফোরামে গৃহীত হলে চুক্তিটি সইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (দ্বিপাক্ষিক-পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টির মতো দূতাবাস রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও বিদেশি দূতাবাসের সংখ্যা ৫১টি। নতুন করে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের বিষয়টি অনগোয়িং প্রসেস। যেগুলো হচ্ছে- সেগুলো তো দৃশ্যমান হচ্ছে। এছাড়া যেগুলো পরে খুলবে সেগুলো তখন দেখা যাবে। অনেক দেশেরই অনারারি কনস্যুলেট আছে। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে তারা সেটির ভিত্তিতে বাংলাদেশে দূতাবাস খুলছে। অর্থনৈতিক অবস্থা ও পলিসির ওপর ভিত্তি করে তারা দূতাবাস করে কিংবা অনারারি কনস্যুলেট করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যেহেতু আগের তুলনায় ভালো, সামনের দিকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে সেটি বলাই যায়। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির চেয়েও বড় কথা এনগেজমেন্ট। আমাদের সঙ্গে অন্য অনেক দেশের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা উচ্চপর্যায়ের যাতায়াত আছে। যেমন আগামী মাসে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সম্ভবত প্রথমবারের মতো আসছেন। ব্রাজিলের সঙ্গে কাজও হচ্ছে আমাদের। এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights