বসুন্ধরা সিটিতে জমেছে ঈদের কেনাকাটা
ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর জনপ্রিয় বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। এ বছর ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সন্তুষ্ট দোকানিরাও। তারা বলছেন, ভারতীয়, পাকিস্তানি পোশাকের পাশাপাশি দেশি পোশাকও বেশ বিক্রি চলছে। শপিং মলে জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড দেশি ১০-এর বিক্রয়কর্মী মেহজাবিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঈদের বাজার ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। মেয়েদের চাহিদার শীর্ষে আমাদের ওয়ান পিস, থ্রি পিস। এ ছাড়াও শাড়ি রয়েছে অনেক। তবে থ্রি পিসে ভ্যারাইটি অনেক বেশি। এখানে কোকাই, দুদুল, হলুদিয়া বর্তমানে বিক্রির শীর্ষে।
আরও রয়েছে বর্ণীল, অনিন্দিতা, অর্পা এগুলোর চাহিদাও বেশ। গতকাল দুপুরে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ঢুকতেই কথা হয় জিনিয়া ইসলাম নামে যাত্রাবাড়ী থেকে আগত এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকালও এসেছিলাম আজও এসেছি বাচ্চাদের নিয়ে। বসুন্ধরা সিটিতে এক ছাদের নিচে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করা যায়। আবার ক্লান্ত হয়ে পড়লে রেস্টও নিতে পারি অষ্টম তলায় বসে। ঈদের আগে আরও দুবার আসতে হবে এখানে। ধানমন্ডি থেকে আগত ডা. ইবাদাত হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, আজকে এখানে এসেছি আত্মীয়স্বজনদের জন্য শপিং করতে। এরপর আবার আসতে হবে ছেলেমেয়েকে নিয়ে। এখানে একসঙ্গে সবার জন্য নিতে পারি, আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় গরমে কষ্ট করতেও হয় না। এদিকে ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকলেও এবার রমজানের শুরু থেকেই বসুন্ধরা শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে ব্যবসা আরও বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিন গতকাল দুপুরে শপিং মলের ভিতরে ও বাইরে মানুষের বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। পোশাক, কসমেটিকস ও জুতার দোকানগুলোতে অবস্থা এমন ছিল যে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে গিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার ফুরসত পাচ্ছিলেন না বিক্রয়কর্মীরা। লেভেল থ্রিতে লামিসা কালেকশনে পণ্য বিক্রি করার ফাঁকে ম্যানেজার মোতালেব হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, এখন থ্রি পিসের চাহিদাই বেশি। এবারও সবচেয়ে বেশি চলছে সারারা, ঘারারা। পাকিস্তানি পোশাকের মধ্যে জনপ্রিয় মারিয়াবির পোশাক, আগানুর, সাদাবাহার। অর্গাঞ্জার মধ্যেও সারারা, সেলোয়ার কামিজ অনেক বেশি চলছে। আবার সাদাবাহারের একটি পোশাক আনারকলিও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। শপিং মলে আড়ংয়ের শো-রুমে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে পা রাখার জায়গা পেতে কষ্ট হচ্ছিল। আড়ংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বরাবরের মতোই এবারও ঈদে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পাঞ্জাবির। শুধু আড়ং নয়, জেন্টলপার্ক, সেইলর, ইয়েলো, ইনফিনিটি, ইজি, জারা, প্লাস পয়েন্টসহ শপিং মলে অবস্থিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতেই ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
