মুক্তি পেলেও নজরদারিতে থাকবেন থাকসিন, পরবেন ‘মনিটরিং ব্রেসলেট’

অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ডের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ও মেরুকরণকারী নেতা হিসেবে পরিচিত থাকসিন সিনাওয়াত্রা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। তবে মুক্তি পেলেও অন্তত চার মাস সরকারের নজরদারিতেই তাকে থাকতে হবে।

সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

৭৬ বছর বয়সি এই নেতাকে স্বাগত জানাতে কারাগারের বাইরে জড়ো হন শত শত সমর্থক ও রাজনৈতিক মিত্ররা। তারা থাকসিনকে লাল গোলাপ দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মুক্তি থাই রাজনীতিতে এক নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত হন সামরিক অভ্যুত্থানে

টেলিকম ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। তিনি ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। দেশটির ইতিহাসে থাকসিনই প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যিনি পূর্ণ চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি উত্তর থাইল্যান্ডের মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তার এই জনপ্রিয়তা ও কখনো রাজতন্ত্রপন্থী আচরণ ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জন্ম দেয়। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘকাল দেশের বাইরে থাকেন। তবে তার রাজনৈতিক দল থাইল্যান্ডের ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল।

২০২৩ সালে দেশে ফেরার পর থাকসিনকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে থাই রাজা সেই সাজা কমিয়ে এক বছর করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সাজার বড় অংশটি পুলিশ হাসপাতালে কাটিয়েছেন।

থাকতে হবে নিজ বাড়িতেই

বর্তমানে বয়স এবং ভালো আচরণের কথা বিবেচনা করে তাকে প্যারোলে মুক্তি দিয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে তাকে আগামী চার মাস কঠোর ‘প্রবেশন’ বা নজরদারির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই সময়ে তাকে ব্যাংককে অবস্থিত তার পূর্বঘোষিত নিজ বাড়িতেই অবস্থান করতে হবে। তার গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে বাধ্যতামূলকভাবে পরতে হবে একটি ‘ইলেকট্রনিক মনিটরিং ব্রেসলেট’। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তাকে প্রবেশন কর্মকর্তাদের কাছে হাজির হয়ে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।

থাকসিনের পরিবার থাই রাজনীতির কেন্দ্রে থাকলেও বর্তমানে তারা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। তার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ২০২৪ সালে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেও একটি বিতর্কিত ফোন কলের জেরে ফেঁসে যান। ২০২৫ সালে আদালতের নির্দেশে তিনি ক্ষমতা হারান। সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে থাকসিনের দল ‘ফেউ থাই পার্টি’ তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। ফলে থাকসিনের এবারের মুক্তি থাইল্যান্ডের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights