ভাড়া নৈরাজ্য রোধে শেরপুরে তিন দিনে ৫০ স্থানে মোবাইল কোর্ট

শেরপুর প্রতিনিধি।

ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। ঈদের পরের দিন শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার (১ জুন) বিকেল পর্যন্ত জেলার বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যেখানেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বা আলামত পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করছে এবং কম গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সতর্ক করছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

গত তিন দিনে জেলা প্রশাসন অন্তত ৫০টি স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। জেলা শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড, খোয়ারপাড়া মোড়, থানা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, নিউমার্কেট ও রঘুনাথ বাজার এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার করে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে ভাড়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

এছাড়া জেলার নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাতেও একই ধরনের অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত শতাধিক বাস ও সিএনজিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। অভিযানে ৫০ হাজার টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

রবিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার পাগলার মুখ, তেঁতুলতলা, জোলগাঁও ও কালিবাড়ি বাজার এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রানী ভৌমিক।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের সত্যতা পায়। তবে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

অভিযান পরিচালনায় থানা-পুলিশের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করছেন।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ভাড়া বেশি নেয়া, যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানি রোধে নিয়মিত তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু শাস্তিই সমাধান নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে।

জরিমানার পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আইনের বিধান অনুসরণ করে সহনীয় মাত্রায় জরিমানা করা হচ্ছে।’ এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights