কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে। গত দুদিন ধরে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে তৃতীয় দফা বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে পানি সামান্য কমলেও, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় ১০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে বইছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী, হাতিয়া ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা তীরবর্তী ঘড়িয়ালডাঙ্গার চরের বাসিন্দা বদরুল হাজী বলেন, পানি বাড়তে থাকায় আমাদের চরের ফসলি জমি ও বসতভিটায় নতুন করে পানি ঢুকছে। এবার মনে হয় বাকি আবাদও শেষ।

উল্লেখ্য, গত দুই দফা বন্যায় এসব এলাকার ৫ শতাধিক হেক্টর জমির শাকসবজি, পটল, ঝিঙে, মরিচ ও বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড়শ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনানুসারে জেলা প্রশাসন এই বরাদ্দ আরও বাড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights