দফায় দফায় বাড়ছে মেয়াদ

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ থেকে গ্রাউন্ড স্টেশন আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ পাওয়ার কথা বিমানবন্দরটির। বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এজন্য আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো অর্ধেক কাজই শেষ হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে। আরেক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি শেষ করতে সময় দেওয়া হয়েছে ২০২৭-২৮ অর্থবছর। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছয় বছরেও অর্ধেক কাজ হয়নি। আগামী দুই বছরে বাকি কাজ সম্পন্ন করা যথেষ্ট দুরূহ ব্যাপার।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের জন্য অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ ও কার্গো বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা থাকছে এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায়। প্রাথমিকভাবে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি টাকা। করোনার কারণে কাজ কিছুদিন থমকে গেলেও পরে আবারও কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় বাড়ানো মেয়াদে ২০২৫ সালের জুনে কাজটি শেষ করার কথা জানিয়েছিলেন শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয়ক মনোয়ার হোসেন। এজন্য ব্যয় কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। ১০৭ কোটির সঙ্গে আরও ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় বেড়েছে বলে জানান।

শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক দিলারা পারভীন জানান, বর্তমানে একটির বেশি উড়োজাহাজ একই সঙ্গে রানওয়েতে নামতে বা উঠতে পারে না। তবে বিমানবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পটি শেষ হলে একই সঙ্গে তিনটি উড়োজাহাজ দাঁড়াতে পারবে। কারণ কার্গো বিমান ওঠানামাসহ একসঙ্গে তিনটি উড়োজাহাজ পার্কিং করার ব্যবস্থা রেখেই এবার আধুনিকায়ন করা হচ্ছে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের। তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে থাকা ৬ হাজার ৬০০ ফিট দৈর্ঘ্যরে রানওয়ে বাড়িয়ে ১০ হাজার ফিট করা হচ্ছে। এর প্রস্থ তখন ১০০ ফিট থেকে বেড়ে হবে ১৫০ ফিট। আর এখনকার ২৬০ বাই ২৫০ ফিটের অ্যাপ্রন হবে ২৭৫ বাই ২৫০ ফিট। নির্মিতব্য আধুনিক টার্মিনাল ভবনটির নিচতলার আয়তন হবে ১৭ হাজার বর্গফুট। দ্বিতীয় তলাটি হবে ১১ হাজার বর্গফুটের। টাওয়ার ও অন্যান্য স্থাপনা মিলিয়ে টার্মিনাল ভবনটিতে জায়গা থাকবে ৩১ হাজার বর্গফুট। এদিকে রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রতিনিয়ত যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও কমেছে ফ্লাইট। ৩৯ বছর আগে নির্মিত এ বিমানবন্দরে বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি একটি সংস্থা মিলিয়ে প্রতিদিন চারটি ফ্লাইট যাত্রী পরিবহন করছে। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হওয়ায় শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশের দুটি এয়ারলাইনস। প্রতিটি এয়ারলাইনসের দুটি করে মোট চারটি ফ্লাইট প্রতিদিন চলাচল করছে। ফলে এ রুটে সপ্তাহে মোট ২৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights