নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, অর্থায়নের সুযোগ, ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও কমপ্লায়েন্স, জেলা পর্যায়ে সমন্বয় এবং উদ্যোক্তাদের তথ্যভাণ্ডার তৈরির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু হলে নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হবে না। ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদের (ইআরসি) মতো প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে সংগ্রহ করা যাবে।
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে, এমনকি বিদেশে অবস্থান করেও উদ্যোক্তারা আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে এসব সেবা নিতে পারবেন। এতে ব্যবসার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসএমই খাতে অর্থায়নের প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এ খাতের জন্য ঋণের পরিসর ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এসব ঋণ ৬ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তারা যাতে এ অর্থায়ন থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পান, সে জন্য এসএমই বোর্ড পুনর্গঠন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান তিনি।
বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যের ঘাটতি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা।
তারা বলেন, দেশে কোন খাতে এবং কোন পর্যায়ে কতজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে তাদের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ সমস্যা সমাধানে নারী উদ্যোক্তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন তারা। একইসঙ্গে জেলা পর্যায়ের উইমেন চেম্বারগুলোকে উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণে যুক্ত করার ওপরও জোর দেন।
বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা বিকল্প সেবা মঞ্চগুলোর প্রশংসা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সেবা ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে বিডব্লিউসিসিআইয়ের ট্রেজারার শাহানা জাফরীন, রিদমা খান ও উলফাত জাহান মুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
