ক্রিকেটের বল নিয়ে বিরোধে সুনামগঞ্জে সংঘর্ষ, আহত ৫০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ক্রিকেট খেলার বল অটোরিকশার কাচে পড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরের সংলগ্ন শনির হাওরের পাড় ও সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে এ সংঘর্ষ হয়। রামনগর, জয়পুর, ধুতমা ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে রামনগর গ্রামের শিশুরা সড়কের পাশে ক্রিকেট খেলার সময় একটি ক্রিকেট বল রাস্তায় থাকা অটোরিকশার ওপর পড়ে। এতে অটোরিকশাটির কাচ ভেঙে যায়। অটোরিকশার মালিক মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় তিনি ওই শিশুদের মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি মারামারি হয়।
পরে রামনগর গ্রামের প্রতিবেশী এবং আশপাশের আরও তিন গ্রামের লোকজন বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ মঙ্গলবার বিকেলে তাহিরপুর বাজারে রামনগরসহ অপরাপর গ্রামের লোকজনকে মারধর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ ওঠে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের বিরুদ্ধে। এর জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রামনগর গ্রামের মসজিদ থেকে আশপাশের চার গ্রামের লোকজনকে ‘যার যা কিছু আছে, তা নিয়ে’ বুধবার বেরিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকেই রামনগর সেতুসংলগ্ন মাঠে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের লোকজন জড়ো হতে থাকেন। অন্যদিকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজন ফায়ার সার্ভিসসংলগ্ন সড়কে জড়ো হন। খবর পেয়ে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। তবে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বুধবার দুপুরে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। দুপুর ২টার দিকে পুলিশ ও সালিশকারীদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, মসজিদের মাইকে সংঘর্ষে জড়ানোর আহ্বানের খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ এড়াতে দুই পক্ষকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুপুরের দিকে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
