ট্রাম্প ডাকছেন, কিন্তু পাশে দাঁড়াচ্ছেন না রিপাবলিকানরা
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কঠিন আসনগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অনেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রচারে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পও ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছেন বলে মনে করছেন সিএনএনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যারন ব্লেক।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গত মাসে ট্রাম্পের আয়োজিত রিপাবলিকান সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের অনেক প্রার্থীই উপস্থিত হননি। এরপর ট্রাম্পের প্রচার সফরও মূলত আলাবামা, ওকলাহোমা ও নিউইয়র্কের মতো তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে সীমিত রয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও সময়সূচির কারণ দেখিয়ে ট্রাম্পের আসন্ন সমাবেশ এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এর মধ্যেই ট্রাম্প বারবার তাঁর সমাবেশের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। মঙ্গলবার বাল্টিমোরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাঁর সমাবেশের কারণে রিপাবলিকান পার্টি এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি লেখেন, “আমার সমাবেশগুলো রিপাবলিকান পার্টিকে আবারও বাঁচাচ্ছে।”
তবে ট্রাম্পের সমাবেশ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থান উন্নত করছে, এমন প্রমাণ এখনো নেই। বরং ট্রাম্পকেন্দ্রিক মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনের পর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ‘জেনেরিক ব্যালট’ জরিপে পরিবর্তন দেখা গেছে।
আইওয়াতেও ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছেন কয়েকজন রিপাবলিকান। প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনও ট্রাম্পের সঙ্গে প্রচারে খুব বেশি আগ্রহী নন বলে মনে হচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি আইওয়ায় যাবেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বড় সমাবেশ করবেন।
মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স অবশ্য বলেছেন, সেখানে ট্রাম্পের প্রচারে আসার সম্ভাবনা নেই।
সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রায় ৩৫টি এলাকায় গিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করবেন। কিন্তু নির্বাচনের আর চার সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকলেও তিনি এখন পর্যন্ত অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গেছেন।
বিশ্লেষক ব্লেকের মতে, রিপাবলিকানদের কাছে ট্রাম্প এখন নির্বাচনী সুবিধার বদলে বোঝা হয়ে উঠছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বড় সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় সমর্থকদের উজ্জীবিত করার ক্ষমতাই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। ফলে প্রার্থীদের তাঁর সঙ্গে প্রচারে অনাগ্রহ তাঁর দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
নির্বাচনের শেষ চার সপ্তাহে কতজন রিপাবলিকান ট্রাম্পকে রাজনৈতিক বোঝা হিসেবে দেখছেন, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
