লালমনিরহাটে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা
রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট
শরতের আবহের মধ্যেই উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। মাঠ-প্রান্তর আর সবুজ প্রকৃতির বুকে শিশিরভেজা সকালের দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ঋতুর পালাবদল ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের সবুজ ঘাস ও ধানের পাতায় জমে আছে শিশিরবিন্দু। হালকা কুয়াশায় দূরের গাছপালা ও পথঘাট আবছা হয়ে আছে। সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়তেই কুয়াশা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, শিশিরভেজা প্রকৃতি ফিরে পাচ্ছে তার চেনা রূপ।
পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। আগামী কয়েক দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে।
কালীগঞ্জের কাকিনা চাপারতল এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস আলী বলেন, “কয়েক দিন ধরেই রাতের শেষভাগে কুয়াশার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই চারপাশে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূতি, বাতাসেও যেন শীতের মৃদু পরশ।”
তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর এলাকার কৃষক আহেদুল ইসলাম আদেল বলেন, “শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি। তবে ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডা জানান দিচ্ছে, শীতের দিনগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।”
প্রভাষক গোলাম মোস্তফা আঙ্গুর বলেন, সকালে হালকা কুয়াশার সঙ্গে শীতল বাতাস প্রকৃতিতে শীতের আবহ তৈরি করছে। ভোরের পরিবেশে এই পরিবর্তন বেশ অনুভূত হচ্ছে। দিনের আলোয় উষ্ণতার ছোঁয়া এখনো থাকলেও ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর ধানের পাতায় জমে থাকা জলকণায় শীতের বার্তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
লালমনিরহাটের প্রকৃতিতে শীতের এই মৃদু আমেজ স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। রাতের হিমেল বাতাস আর সকালের স্নিগ্ধ কুয়াশা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, শীত আসছে ধীরে ধীরে।
জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, “তুলনামূলকভাবে লালমনিরহাট হিমালয় পর্বতমালার নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে অনেক সময় শীতের আভাস আগেভাগেই অনুভূত হয়। এখন প্রকৃতিতে শীতের মৃদু আমেজ দেখা দিচ্ছে। তবে শীতের প্রকোপ বাড়লে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের প্রস্তুতি থাকবে।”
