আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রশংসায়ক্যারিবীয়রা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ভীষণ পরিচিত এবিজি স্পোর্টস সিটি। স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় খেলেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের দল অস্ট্রেলিয়া। ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে সরব পদচারণা শুরু হয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটির। স্পোর্টস সিটির অন্যতম ভেন্যু আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলছে দুবারের ওয়ানডে ও দুবারের টি-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজ খেলবে ক্যারিবীয়রা। টেস্ট সিরিজ খেলতে নামার আগে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে রোস্টন চেজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতকাল শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ম্যাচ। কালাম সিদ্দিকীর সেঞ্চুরি এবং জিশান আলম ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান করেছে বিসিবি একাদশ। কালাম ১৩৫, জিশান ৮৬ ও রিজওয়ান ৫৯ রান করেন। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুতে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অসাধারণ মনোরম পরিবেশের স্টেডিয়ামে দিনভর বোলিং উপভোগ করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বসে প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি উইকেটের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, ‘উইকেট আন্তর্জাতিক মানের, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট খুবই ভালো। আমার মনে হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের উইকেট।’ ক্যারিবীয় বোলারদের সাবলীল খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন কালাম সিদ্দিকি অলিন। তিনি ১৩৫ রানের ইনিংসটি খেলেন ১৮৪ বলে ২০ চার ও এক ছক্কায়। তিনিও প্রশংসা করেছেন উইকেটের, ‘উইকেট খুব ভালো ছিল। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের জন্যই খুবই ভালো। স্পিনারদের জন্যও ভালো ছিল। অবশ্য পেস বোলাররাও সুবিধা পেয়েছেন।’
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ খেলল। গেল আগস্টে এখানে ৩টি ওয়ানডে খেলেছে আইসিসি সহযোগী দেশ মালয়েশিয়া। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের জমজমাট আসর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের একাধিক খেলা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপ নিতে পুরোদমে কাজ চলছে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের। এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান বলেন, ‘ইতোমধ্যে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট বসেছে, গ্যালারি তৈরি হয়ে গেছে।’ এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুধু ফুটবল ও ক্রিকেট নয়, বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের মতো বিভিন্ন খেলার সুযোগসুবিধা রয়েছে এখানে। এ ছাড়া জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও অনুষ্ঠিত হয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে। এবিজি স্পোর্টস সিটিকে পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন পরিচালক ইমরুল, ‘আমাদের চিন্তভাবনা হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্পোর্টসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখা এবং এটাকে একটা স্পোর্টস হাব হিসেবে তৈরি করা। যাতে এ মঞ্চ থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।’ এবিজিতে ভবিষ্যতে শুটিং ইভেন্ট আয়োজনেরও পকিল্পনা রয়েছে।
