হামের ভয়াবহ প্রত্যাবর্তন, নিউইয়র্কে ৩০ বছর পর শিশুর মৃত্যু এআই নির্মিত
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে এ রোগে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
সোমবার অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা লুইস কাউন্টিতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এলাকাটি সিরাকিউজ শহর থেকে প্রায় ৯৩ মাইল বা ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
এক বিবৃতিতে হোকুল বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে একটি শিশুর মৃত্যুর খবর তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এ মৃত্যুর জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের টিকাদান নীতির সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় কয়েক দশকের অগ্রগতি দুর্বল করে দেওয়ার পরিণতি এই মৃত্যু।
অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হাম। এতে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রতি এক হাজার আক্রান্তের মধ্যে এক থেকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে।
উচ্চ টিকাদান কর্মসূচির কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে হামের সংক্রমণ বন্ধ হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার কমে গেছে। রোগটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজের নিচে নেমে যাওয়ায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশটিতে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৮৮। ২০২৫ সালের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৮ জন। সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহ অঙ্গরাজ্যেও ৫০০-এর বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সিডিসি চলতি বছর হামের কারণে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ বছর ছয়জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত অক্টোবরের শুরুতে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর হোকুল। নির্বাহী আদেশে প্যারামেডিক, ধাত্রীসহ আরও কয়েক শ্রেণির স্বাস্থ্যকর্মীকে হামের টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র টিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং শিশুদের টিকাদানসংক্রান্ত সুপারিশ এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়ায় সমালোচনার মুখে রয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
