হত্যার পর কার্টনে মুড়িয়ে মাটিচাপা, সেই রাকিব পেলেন জিপিএ-৫; মিষ্টির বদলে কুলখানির আয়োজন
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অপহরণের পর হত্যার শিকার সেই মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে ছেলের এমন অসাধারণ সাফল্যে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে কুলখানি। রবিবার (১ নভেম্বর) এতিম শিশুদের খাবার খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি রাকিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন বন্ধু ও স্বজনরা।
জানা যায়, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল ইসলামের বাড়ি। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম পেয়েছেন জিপিএ-৫। কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আর কোনো দিন বাড়ি ফিরবেন না তিনি। ছেলের ফলাফলে পরিবার গর্বিত হলেও সেই গর্বের সঙ্গে মিশে আছে স্বজন হারানোর অসহনীয় কষ্ট। যে বাড়িতে আজ আনন্দ-উৎসব হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম।
সরেজমিনে রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, যে ঘরে বসে লেখাপড়া করতেন তিনি, সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তাঁর বই-খাতা ও পড়ার টেবিল। পাশে রয়েছে রাকিবের ছবি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক। এসব স্মৃতি আঁকড়েই দিন কাটছে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের।
ছেলের অকালমৃত্যু ও অভাবনীয় ফলাফলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অনেক স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। স্কুলজীবনে ছয়টি বৃত্তি পেয়েছে। সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি দাবি করছি।’
রাকিবের মা জহুরা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। অনেক কষ্ট করে তাকে মানুষ করছিলাম। স্কুলে সব সময় প্রথম হতো। অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় ভর্তির প্রস্তুতি নিতে গিয়েছিল। আমার ছেলের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করে দিয়েছে তারা।’
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় রাকিবকে হত্যার অভিযোগে আব্দুল্লাহ মামুন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। ওই ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও তাঁকে আর ফিরে পায়নি। পরে গ্রেপ্তারকৃত মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর নীলফামারীর ডিমলা থেকে কার্টনে মোড়ানো মাটিচাপা দেওয়া রাকিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
