রাশিয়া-ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার আগে যে কারণে জার্মানি সফরে জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা ফের শুরুর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জার্মানির রাজধানী বার্লিন সফর করবেন। সফরকালে সেখানে তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শান্তি আলোচনার আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানাতে চাইছেন বলে স্পষ্ট করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস।

মঙ্গলবার সফরের ঘোষণা দিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর জানান, এবারের সফর গত বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের হোয়াইট হাউস সফরের মতো হবে না। এ সময় তিনি সম্ভবত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জেলেনস্কির তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলেনস্কির বিদেশ সফরগুলো সাধারণত শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পের রুশ ডিজেল কেনা, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং কিয়েভকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে জেলেনস্কির যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তাতে ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির পক্ষ নিয়েছেন।

এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে মানবিক সহায়তা বিতরণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে রুশ বাহিনীর বোমা হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য ও চার পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে, সোমবার (২ নভেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানায়, হামলায় আহত পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও বার্তায় বলেন, হামলার সময় স্কুলটিতে কোনো পাঠদান কার্যক্রম চলছিল না। প্রতি সোমবার স্কুলটি আশ্রয়কেন্দ্র ও মানবিক সহায়তা বিতরণের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ত্রাণের প্যাকেট নিতে জড়ো হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষজন সেখানে জড়ো হওয়ার সময় রুশ বাহিনী প্রথম দফায় কয়েকটি বোমা নিক্ষেপ করে। পরে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনাকে জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights